ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মা ‘অপহরণের’ মাস্টারমাইন্ড মরিয়ম মান্নান, যা জানাল পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
মা ‘অপহরণের’ মাস্টারমাইন্ড মরিয়ম মান্নান, যা জানাল পিবিআই
ফাইল ফটো

দেশব্যাপী আলোচিত খুলনার রহিমা বেগম ‘অপহরণ’ মামলায় মেয়ে মরিয়ম মান্নানকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে পিবিআই। এতে ফেঁসে গেছেন রহিমা বেগম এবং তার ২ মেয়ে মরিয়ম মান্নান ও মামলার বাদী আদুরি আকতার। একই সঙ্গে এ মামলায় জেল খাটা ৫ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিন সকালে মহানগর হাকিম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে রহিমা বেগমকে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মরিয়ম মান্নানের নেতৃত্বে অপহরণের নাটক সাজানোর প্রমাণ মিলেছে। মূলত রহিমা বেগম অপহরণ হননি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। তিনি ২৮ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। এই ২৮ দিন বিভিন্ন স্থান পরিবর্তন করেছেন তিনি।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে তিনি মহেশ্বরপাশার বাসা থেকে আত্মগোপন করার পরে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় কিছুদিন অবস্থান করার পর টপ টেনের একটি ব্যাগে কিছু কাপড় ও ওষুধ দিয়ে মরিয়ম মান্নান তাকে বান্দরবান পাঠিয়ে দেন। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর তিনি চলে যান ফরিদপুর জেলা বোয়ালমারী সৈয়দ গ্রামের জনৈক আবদুল কুদ্দুসের বাড়িতে। সংবাদ পেয়ে ওই বাড়ি থেকে রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করি। তাকে উদ্ধারের পর তিনি কোনো কথাই বলছিলেন না। অনেক চেষ্টার পর কথা বলানো সম্ভব হলে তিনি জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ আছে নাম উল্লেখ করে তারা অপহরণ করেছে বলে তিনি বিবৃতি দেন।

পরবর্তীতে তাকে আদালতে জবানবন্দির জন্য পাঠানো হলে তিনি একই রকমের মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেন। যেহেতু আমরা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছি এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে ঘটনাস্থল মহেশ্বরপাশায় পাওয়া যায়। সুতরাং তদন্ত শেষে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতামতে শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মরিয়ম মান্নানের নেতৃত্বে এই অপহরণ নাটক সাজানো হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ সৃষ্টি করেছিলেন মরিয়ম মান্নান। পাশাপাশি ময়মনসিংহের ফুলপুর ৩০ থেকে ৩২ বছর বয়সী একটি নারীর অর্ধগলিত লাশকে তিনি নিজের মা বলে চালিয়ে দেওয়ার নাটক করেছিলেন। নাটকটির পেছনের কারণ ছিল যদি তাকে (নারীর লাশ) তার মা বলে চালিয়ে দেওয়া যেত, তাহলে প্রতিবেশীদের চিরতরে ফাঁসানো যেত এবং নিঃশেষ করা যেত। কিন্তু তিনি চিন্তা করতে পারেননি যে পুলিশ বাহিনী খুঁজে খুঁজে তার মাকে বের করে ফেলবে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে যাতে বিজ্ঞ আদালত ব্যবস্থা নেয়, সেই ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী  রহিমা বেগম, তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান এবং আরেক মেয়ে ও মামলার বাদি আদুরি আক্তার এই ৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা আদালতে সুপারিশ করেছি।

পুলিশ সুপার বলেন, এই নাটকেট মস্টার মাইন্ড মরিয়ম মান্নান। সারা দেশব্যাপী যে ক্রাইসিস সৃষ্টি করেছিল মরিয়ম মান্নান, তার মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য। সে কারণে আমরা একটু বেশি সময় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করেছি। যাতে আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারি এবং সবাইকে একটা বার্তা দিতে পারি পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনা, এই ধরনের নাটক ও নিজের মাকে লুকিয়ে রেখে এই ধরনের নাটক করতে কেউ সাহস না পায়।

তিনি বলেন, এর আগে অপহরণ মামলায় যে পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা এ ঘটনায় নির্দোষ। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট রাতে খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার বাড়ি থেকে রহিমা বেগম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। তাকে অপহরণের অভিযোগ তুলে পরদিন মেয়ে আদুরি আক্তার দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর খুলনার দৌলতপুর থানা পুলিশ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের বাড়ি থেকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!