ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কিশোরগঞ্জে টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
কিশোরগঞ্জে টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় স্বামী মো. মামুন মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. মামুন মিয়া (৩৩) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাগলাইল (দানাপাটুলী) এলাকার মৃত মতি মিয়ার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় একমাত্র আসামি মো. মামুন মিয়া পলাতক ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement

মামলার এজাহারে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সদরে গাগলাইল দানাপাটুলী এলাকার মৃত মতি মিয়ার ছেলে মামুন মিয়ার সঙ্গে একই উপজেলার তারাপাশা এলাকার মিনার আলম খানের মেয়ে নন্দিনীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

বিবাহের কিছুদিন পর থেকে স্বামী মামুন স্ত্রী নন্দিনীকে যৌতুকের জন্য অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। স্বামীর নির্যাতনের কথা তার মাকে জানালে তার মা গোপনে মেয়ের জামাই মামুনকে কিছু টাকা দেন। কিছুদিন পরে আবার মামুন নন্দিনীকে তার বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। নন্দিনীকে বাবার বাড়ি থেকে কোনো টাকা এনে দিতে পারবে না বললে মামুন আবার নন্দিনীকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন।

২০১৩ সালে ২০ এপ্রিল মামুন তার কিশোরগঞ্জের তারাপাশার দিদার মিয়ার ভাড়া বাসায় স্ত্রী নন্দিনীর কাছে আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। নন্দিনী যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে মারপিট করে নন্দিনীর শরীরে কেরোসিন ঢে‌লে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যান।

প্রতিবেশী লোকজন নন্দিনীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঘটনার পাঁচদিন পর ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নন্দিনীর মৃত্যুর সময় তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি ৮ মাসের কন্যা সন্তান ছিল।

এ ঘটনায় নন্দিনীর বাবা মিনার আলম খান বাদী হয়ে স্বামী মামুনকে একমাত্র আসামি করে ১ মে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন কিশোরগঞ্জ আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।

মামলার তদন্ত শেষে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর মো. ফজলুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!