সেই থেকেই তার ইচ্ছে জাগে ২০১ গম্বুজ মসজিদে নামাজ পড়ার। ইচ্ছা পূরণে সাইকেল চালিয়ে প্রায় ২০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০১ গম্বুজ মসজিদ জুমা’র নামাজ আদায় করেছেন তিনি। তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানানোসহ সহযোগিতা করেছেন পরিবার ও স্বজনরা।
রাসেল লাল বিশ্বাস ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলা পৌর এলাকার পশ্চিম গারাখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল ছাত্তার বিশ্বাসের ছেলে।
.png)
জানা যায়, গোপালপুরে ২০১ গম্বুজ মসজিদ জুমা’র নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে গত বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরদিন বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাথালিয়া গ্রামে নির্মিত ২০১ গম্বুজ মসজিদে পৌঁছান। পরে গোপালপুর উপজেলার পাথালিয়া গ্রামে নির্মিত ২০১ গম্বুজ মসজিদে পৌঁছে দুপুরে স্থানীয় মুসুল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ সময় তাকে দেখতে ভিড় জমান মুসুল্লি ও স্থানীয় লোকজন। এ সময় থেকে তার সঙ্গে ছবি ও সেলফিও তোলেন উৎসুক জনতা। এরপর শুক্রবার ২০১ গম্বুজ মসজিদে জুমা’র নামাজ আদায় করেন তিনি।
রাসেল লাল বিশ্বাস জানান, পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাথালিয়া এলাকায় নির্মিত ২০১ গম্বুজের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এসব মাধ্যমে জেনেছেন দৃষ্টিনন্দন এই ২০১ গম্বুজ মসজিদে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ জুমা’র নামাজ পড়তে আসেন। সেই থেকেই ইচ্ছে জাগে ২০১ গম্বুজ মসজিদে নামাজ পড়ার।
তিনি জানান, এরপর সিদ্ধান্ত নেন ২০১ গম্বুজ মসজিদে আসবেন। কিন্তু বাসে এলে আশপাশের পরিবেশ দেখা যাবে না ভেবে পুরনো একটি সাইকেল নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করলে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান সাইকেল নিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন। সেই উৎসাহ থেকে প্রায় ২০৫ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে মসজিদে এসেছেন তিনি।
রাসেল বিশ্বাস আরো জানান, গত বুধবার সকাল ৬টার দিকে মধুখালী নিজ বাড়ি থেকে সাধারণ একটি পুরনো বাই সাইকেল নিয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ২০১ গম্বুজ মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কোনো বিরতি না দিয়ে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছান দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। ফেরিতে নদী পার হয়ে আরিচা ফেরিঘাটে আসেন। এরপর আবার সাইকেল চালানো শুরু করেন।
মানিকগঞ্জের শিবালয়-ঘিওর হয়ে দৌলতপুর উপজেলা সদরে আসেন বুধবার দুপুরে। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার যাত্রা শুরু করেন। এরপর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া এলাকায় একটি মসজিদে রাতযাপনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু ওই এলাকার মতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি তাকে তার বাড়িতে রাতযাপন করার সুযোগ দেন। পরে আবারো প্রস্তুতি নেন গোপালপুরে যাওয়ার।
এরপর সেখান থেকে ভুয়াঞাপুর হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে আবার যাত্রা শুরু করেন গোপালপুরের উদ্দেশ্যে। বেলা ১২টার দিকে তিনি গোপালপুরের পাথালিয়া গ্রামে ২০১ গম্বুজ মসজিদে পৌঁছান। পরে দুপুরে নামাজ আদায় শেষে তিনি ওই এলাকা ঘুরে দেখেন। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দেওয়ার সময় পথে নতুন নতুন অনেক জায়গা দেখার সুযোগ হয়েছে তার। এটি তার খুব ভালো লেগেছে। তাই পথে কোনো ক্লান্তি বোধ হয়নি বলেও জানান তিনি।
পাথালিয়ার স্থানীয় মুসুল্লি নূর আলমসহ কয়েকজন বলেন, রাসেল বিশ্বাস নামে তার নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ২০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাইকেলযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালপুরের ২০১ গম্বুজ মসজিদে প্রাঙ্গণে পৌঁছান। পরে তাকে দেখতে লোকজন ভিড় করেন। তারসঙ্গে অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। শুক্রবার দুপুরেও তিনি মুসুল্লিদের সঙ্গে জুমা’র নামাজ আদায় করেন। বিষয়টি খুবই প্রসংনীয়।
২০১ গম্বুজ মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল করিম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মসজিদে এসে দেখি এক ব্যক্তি সাইকেলযোগে ২০১ মসজিদে এসেছেন। পরে তার সঙ্গে কথা বললে, তিনি এই মসজিদে নামাজ পড়া ইচ্ছের বিষয়টি জানান। শুক্রবার দুপুরে জুমা’র নামাজ আদায় শেষে তিনি ধনবাড়ীর নবাববাড়ী মসজিদ দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এখানে আসতে পেরে তিনি অনেক খুশি।