রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে, শনিবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বায়েজিদ বোস্তামি আবাসিক এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার জুয়েল মিয়া সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে। বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুচরা এলাকায় থাকেন তিনি।
.png)
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা পিয়ার মোহাম্মদ একজন ফার্ণিচার ব্যবসায়ী। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বালুচরা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। একই বাড়িওয়ালার বাসায় ভাড়ায় থাকেন জুয়েল মিয়া। সেই সুবাধে তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জুয়েলকে ভাইয়া বলে সম্বোধন করতো পিয়ার মোহাম্মদের দুই ছেলে-মেয়ে। বিভিন্ন সময় তাদের দোকানে নিয়ে চিপস-চকলেট কিনে দিতেন জুয়েল।
শনিবার দুপুরে বাসার পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল পিয়ার মোহাম্মদের দেড় বছর বয়সী মেয়ে ফারিয়া। কিছুক্ষণ পর বাবা পেয়ার মোহাম্মদ তাকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে জানতে পারেন- তাকে কোলে করে দোকানের দিকে নিয়ে যান জুয়েল। এরপর অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়ে ও জুয়েলকে কোথাও না পেয়ে আতঙ্কিত এবং দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন পিয়ার মোহাম্মদ।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ফোন করে জুয়েল জানান, তার হেফাজতে আছে ফারিয়া। তাকে ফিরে পেতে হলে মুক্তিপণ হিসেবে দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা। দ্রুত টাকা না পাঠালে শিশুটিকে ফিরিয়ে না দিয়ে হত্যা করে ড্রেনে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেন জুয়েল। এ অবস্থায় উপায় না দেখে র্যাবের সহযোগিতা চান পিয়ার মোহাম্মদ।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর বাবার অভিযোগ পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতারে নজরদারি শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় অপহরণের ৯ ঘণ্টার মধ্যে শনিবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বায়েজিদ বোস্তামী আবাসিক এলাকার বহুতল ভবনের একটি বাসা থেকে অপহরণকারী জুয়েল মিয়াকে গ্রেফতার ও শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশী হিসেবে ভালো সম্পর্ক ছিল দুই পারিবারের। সেটিকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান জুয়েল। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।