ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জনপ্রিয় হচ্ছে আদর্শ বীজতলা

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) 
প্রকাশিত: ১২:৩৬, ১৬ জানুয়ারি ২০২৩
জনপ্রিয় হচ্ছে আদর্শ বীজতলা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আদর্শ বীজতলা তৈরি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সনাতন পদ্ধতির বীজতলার পরিবর্তে এখন আদর্শ বীজতলা তৈরিতে ঝুঁকছেন কৃষকরা। আদর্শ বীজতলায় উৎপাদিত ধানের চারা যেকোনো বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করতে সক্ষম। এ বীজতলার চারা সুস্থ ও সবল হয়। ফলে কোল্ড ইনজুরি ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকিও কম থাকে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে শুকনো জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হয়। জমি প্রস্তুত হলে ২ হাত প্রস্থ বিশিষ্ট বেড তৈরি করতে হয়। শীত মৌসুমে বীজ ৪৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেগুলো বীজতলায় ছিটাতে হয়। বীজ ছিটানোর ২৮-৩৫ দিনের মধ্যে চারাগুলো রোপণের উপযুক্ত হয়। 

এ বছর পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৫৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত জমির জন্য ৩শ হেক্টর বীজতলা প্রয়োজন। ৩২০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে আদর্শ বীজতলা হয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী।  

কৃষক তামজিদ খান জানান, এ মৌসুমে ৮০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন তিনি। এ জন্য তিনি ২ বিঘা জমিতে দুইশ কেজি ধান দিয়ে আদর্শ বীজতলা তৈরি করেছেন। এরমধ্যে জমিতে ধান আবাদ শুরু করেছেন তিনি। 

আদর্শ বীজতলাকৃষক এনাম মিয়া জানান, তার ১০ বিঘা জমি আছে। ঐসব জমি আবাদ করতে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। সনাতন পদ্ধতির তুলনায় তার খরচ কম হয়েছে। তাছাড়া বীজতলার মানও বেশ ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করায় চারা সুস্থ-সবল রয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে বীজধান, সার, সেচ ও সময়সহ খরচ অনেক কম লাগে। চারাগুলো সুস্থ-সবল হয়। এছাড়া প্রচন্ড শীতেও বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরিতে’ আক্রান্ত হয় না। বীজতলা থেকে চারা তোলার সময় শিকড়ে মাটি কম ধরে। ফলে চারাগুলো কোনো আঘাত পায় না। আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা করলে প্রতি শতাংশ জমিতে আড়াই কেজি বীজধান লাগে। 

তিনি আরো বলেন, আদর্শ বীজ জমিতে রোপণের পর শতভাগ চারা জীবিত থাকে এবং অল্প সময়ে বেড়ে উঠে। ধানের ফলনও ভালো হয়। খরচও কম হয়। ফলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পদ্ধতি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!