দুই সন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন মা, বাবা গ্রেফতার
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দুই কোলে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুমি আক্তার নামে এক গৃহবধূ। শনিবার ভোরে এ ঘটনায় ঐ গৃহবধূর স্বামী রাশেদুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার সকালে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউপির ঘুমটি নামক এলাকায় দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুমি। ঐদিন রাতেই স্বামী ও শাশুড়ির নামে লালমনিরহাট রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন সুমির বাবা আজিজুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানায়, দুই সন্তানকে নিয়ে অটোরিকশায় করে বুড়িমারীর দিকে যান সুমি। পরে বুড়িমারীর ঘুন্টি রেললাইনে যান তিনি। এ সময় লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনের নিচে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ঝাঁপ দেন তিনি। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সুমি ও তার মেয়ে তাসিন। এতে আহত হয় তার ছেলে তৌহিদ।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। আহত শিশু তৌহিদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত তৌহিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যায় শিশু তৌহিদ।
পুলিশ জানায়, মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুমি আক্তার। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী রাশেদুজ্জামানের সঙ্গে ঝগড়া হয় তার। একপর্যায়ে সুমিকে মারধরও করেছিলেন শাশুড়ি। সকালে ঐ ঘটনার জেরে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সুমি।
সুমি আক্তারের বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি থানায় অভিযোগ করেছি, পুলিশ এই হত্যার তদন্ত করবে। কেনো হত্যা করেছে তারাই বের করবে। আমি বিশ্বাস করি, এই হত্যার তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দেবে পুলিশ।
পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, মা ও মেয়ের মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন ছেলে সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সুমির বাবার করা মামলায় স্বামী রাশেদুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।