অদ্ভুত নম্বরে আয়াতের বাবাকে যে হুমকি দিলেন ‘হত্যাকারীরা’
পাঁচ বছরের আয়াত এখন ‘টক অব দ্য চট্টগ্রাম’। মেয়েটির হাসিমাখা কয়েকটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু এ বয়সেই পৃথিবী ছাড়তে হলো ছোট্ট আয়াতকে। গলা টিপে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি খুনি, টুকরো টুকরো করে ভাসিয়ে দিলো সাগরে।
এখানেই শেষ নয়; মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার পর এখন স্বজনদেরও দেওয়া হচ্ছে হুমকি। এরই মধ্যে অদ্ভুত নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজে হুমকি পেলেন আয়াতের বাবা। তবে এ হত্যাকাণ্ডে কোনো চক্র জড়িত বলে দাবি করছেন তিনি। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে অভিযোগও করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, পাঁচদিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়ে আয়াত হত্যার বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দিয়েছিলেন অপরিচিত একজন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকেও একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়। ৬৫৮৪০৪০২০৭ নম্বর থেকে ওই ব্যক্তি বলেন- আয়াতকে ছয় টুকরো করেছি, তোমাদেরও টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হবে। আবিরকে আমি বলেছিলাম ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে না পালানোর কারণে ধরা খেয়েছে।
আয়াতের বাবা বলেন, ওই ব্যক্তির কণ্ঠ শুনে মধ্যবয়স্ক মনে হয়েছে। আমি এসব মেসেজ সংরক্ষণ করে রাখতে পারিনি। এর মাধ্যমে কেউ আয়াতের তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে কিনা তা নিয়েও শঙ্কিত রয়েছি। আমরা বিষয়টি পিবিআইকে জানিয়েছি।
আয়াতের মা শাহিদা ইসলাম তামান্না বলেন, অপরিচিত ওই ব্যক্তি ভয়েস ম্যাসেজ পাঠানোর পর সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট করে দিয়েছেন। তিনি কেন এসব করছেন, কিছু বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মনোজ কুমার দে বলেন, হুমকির বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। তাদের এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করতে বলা হয়েছে, যেন পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। একই সঙ্গে আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
বুধবার বিকেলে ইপিজেড থানার আকমল আলী ঘাটের স্লুইসগেট এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো আয়াতের দুই পা ও বৃহস্পতিবার সকালে একই এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
আয়াত নিখোঁজের ৯ দিনের মাথায় ২৪ নভেম্বর রাতে আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকা থেকে আবিরকে আটক করে পিবিআই। আটকের পর তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে খুলে ঘটনার জট।
আবির জানান, হত্যার পর বাবার বাসায় নিয়ে ছয় টুকরো করেন আয়াতের লাশ। এরপর আলাদা পলিথিনে ভরে আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন নালায় ও সাগরে ফেলে দেন। লাশ টুকরো করার কাজে ব্যবহার করেন বঁটি ও অ্যান্টি কাটার। পরে আবিরকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি ও অ্যান্টি কাটার উদ্ধার করে পিবিআই। উদ্ধার করা হয় আয়াতের জুতাও।
১৫ নভেম্বর বিকেলে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত। ওই ঘটনায় একই দিন রাতে ইপিজেড থানায় জিডি করেন তার বাবা।