পলিথিনে মোড়ানো ছিল আয়াতের দুই পা
পলিথিনে মোড়ানো ছিল আয়াতের দুই পা। তবে আবির আলীর দেখানো পথের প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি গর্তে মিলেছে পা দুটি। এমনটিই জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার বিকেলে নগরের বন্দরটিলার আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইসগেটের খাল থেকে আয়াতের দুটি পা উদ্ধার করা হয়।
সংস্থাটির চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, আয়াতের লাশ ছয় টুকরো করে ছয়টি প্যাকেটে ভরে বিভিন্ন জায়গায় ফেলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান আবির। এর মধ্যে মাথা ও দুই পা আকমল আলী রোডের স্লুইচগেটের খালে এবং দুই হাত ও বাকি অংশ সাগরে ফেলার কথা জানান। বুধবার পা দুটি পাওয়া গেলেও মাথার সন্ধানে তল্লাশি চলছে। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়েও চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
আয়াত ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ির সোহেল রানার মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়িতে ভাড়ায় থাকে আবিরের পরিবার।
আয়াত নিখোঁজের ৯ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রাতে আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকা থেকে আবিরকে আটক করে পিবিআই। আটকের পর তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে খুলে ঘটনার জট। পিবিআই’র কাছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিতে থাকেন আবির। এরপরই তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি ও অ্যান্টি কাটার উদ্ধার করে পিবিআই। উদ্ধার করা হয় আয়াতের জুতাও।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আবির জানান, শিশু আয়াতকে অপহরণ করে ছয়-সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল তার। এজন্য রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিমও সংগ্রহে রেখেছিলেন। যেন নম্বরটি থেকে ফোন করে টাকা দাবি করতে পারেন। কিন্তু সিমটি সচল না থাকায় আর ফোন করতে পারেননি। আয়াত চিৎকার করতে চাইলে তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে কেটে ছয় টুকরা করে কিছু অংশ সাগরে ভাসিয়ে দেন। আর কিছু অংশ পার্শ্ববর্তী আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইসগেটের খালে ফেলে দেন।
এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় মামলা করেন আয়াতের বাবা। ওই মামলায় শনিবার প্রথম দফায় দুদিনের রিমান্ডে পেয়ে আবিরকে সঙ্গে নিয়ে আয়াতের লাশের খণ্ডিত অংশের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পিবিআই। পরে সোমবার আবিরকে ফের সাতদিনের জন্য হেফাজতে নেয় সংস্থাটি।
এছাড়া সোমবার রাতে আবিরের বাবা, মা ও বোনকে এ মামলায় গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের হেফাজতে নেয়া হয়।
১৫ নভেম্বর বিকেলে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত। ওই ঘটনায় একই দিন রাতে ইপিজেড থানায় জিডি করেন তার বাবা। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা সোহেল রানা ও মা তামান্না খাতুন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল ঘুরেও পাননি আদরের সন্তানকে। পরে সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল পরিবার।