কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে মাইক্রো উল্টে খাদে, প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের
কক্সবাজার থেকে পরিবার নিয়ে ফিরছিলেন রাশেদুল হক রাশেদ। পদ্মা সেতু এলাকায় এলে চালককে পেছনে বসতে বলে নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। পথে শরীয়তপুরের জাজিরা মহাসড়কের দাতপুর এলাকায় পৌঁছলে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দেড় বছরের মেয়ে মীম ও রাশেদ মারা যান। এ সময় নিহতের স্ত্রী ও আরেক মেয়ে এবং গাড়ি চালক গুরুতর আহত হন।
রোববার ভোর ৪টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- অ্যাডভোকেট রাশেদুল হক রাশেদ ও তার মাইশা মীম। রাশেদ উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউপির দাতপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। আহতরা হলেন- নিহত রাশেদের স্ত্রী সোহানা আক্তার মিলি, বড় মেয়ে মেবিন ও চালক কামরুল হাসান। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রাশেদের ভাগনে জাহিদ হোসেন বলেন, শনিবার পরিবার নিয়ে কক্সবাজার থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন মামা। পদ্মাসেতু এলাকায় এসে মামা গাড়ির চালককে পেছনে বসতে বলে নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ সময় জাজিরা মহাসড়কের দাতপুর এলাকায় পৌঁছলে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়।
আহত চালক কামরুল হাসান বলেন, গত বুধবার আমরা কক্সবাজার যাই। শরীয়তপুর থেকে রাশেদুল হক স্যার, ম্যাডাম ও তাদের দুই মেয়ে মেবিন এবং মাইশা মীমকে নিয়ে রওনা হই। ভ্রমণ শেষে আমরা শরীয়তপুরে ফিরছিলাম। ঢাকায় আসার পরে আমাকে পাশে বসিয়ে স্যার নিজেই ড্রাইভ করছিল। কিছু দূর যাওয়ার পরে আমি বারবার স্যারকে নিষেধ করেছি। ম্যাডামও তাকে ড্রাইভ করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু তিনি বলেছেন সমস্যা নেই। জাজিরা পার হয়ে নড়িয়ার জামতলা এলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় মাইক্রোবাস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের শরীয়তপুরের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, আমরা ভোর ৪টার দিকে খবর পাই, নড়িয়ার জামতলা এলাকায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পানিতে পড়ে থাকা মাইক্রোবাসটি টেনে তুলি।
নড়িরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।