৫ হাজার টাকা দিতে পারেননি বাবা, ক্লিনিকেই মারা গেল যমজ নবজাতক
জন্মের পর দুই নবজাতকের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাদের কোথাও যেতে দেননি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তিন ঘণ্টা আটকে রেখে দেননি চিকিৎসাও। বিষয়টি জানাজানি হলে এগিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। ততক্ষণে দুই নবজাতক চলে যায় না ফেরার দেশে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মাতৃসেবা নরমাল ডেলিভারি সেন্টার নামে একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, এদিন দুপুর ২টার দিকে প্রসূতি স্ত্রীকে মাতৃসেবা নরমাল ডেলিভারি সেন্টারে ভর্তি করান ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মুনির। আধা ঘণ্টা পর নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে যমজ সন্তানের জন্ম দেন তার স্ত্রী। তবে অপরিপূর্ণ বয়সে জন্ম নেয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় দুই নবজাতকের। ফলে অন্য একটি হাসপাতালে নিতে চাইলে ডেলিভারি বাবদ দশ হাজার টাকা দাবি করেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় তাৎক্ষণিক পাঁচ হাজার টাকা জোগাড় করে তাদের হাতে দেন মুনির। কিন্তু এতেও দুই নবজাতককে ছাড়তে রাজি হননি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা ছাড়াই তিন ঘণ্টা আটকে রাখেন তাদের। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নবজাতক দুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু এর আগে মারা যায় শিশু দুটি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুনির বলেন, তারা ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। কিন্তু ওই মুহূর্তে আমার কাছে এত টাকা ছিল না। এছাড়া নরমাল ডেলিভারির জন্য এত টাকা কেন চাইছিলেন- জানতে চাইলে ক্লিনিকের কর্মচারীরা দরজা বন্ধ করে দেন। দশ হাজার টাকা থেকে দশ পয়সা কম হলেও সন্তান দিতে পারবেন না বলে জানান তারা। অক্সিজেনের অভাবে আমার দুই সন্তান মারা গেছে। আমি তাদের শাস্তি চাই।
এ ঘটনার পর ক্লিনিকে কর্মরত চারজনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন।