সম্পদ গোপন করায় মাদক নিয়ন্ত্রণের সাবেক কর্মকর্তা স্ত্রীসহ কারাগারে
যশোরে ১৮ লাখ টাকার সম্পদ গোপন করার দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাবেক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
দুদকের মামলায় সোমবার স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) সামছুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি আশরাফুল আলম বিপ্লব।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাবেক সুপারিটেনডেন্ট ও মণিরামপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের মৃত রজব আলী মোড়লের ছেলে মকবুল হোসেন এবং তার স্ত্রী সালেহা বেগম। এ দম্পতি বর্তমানে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার বাড়িতে বসবাস করেন।
রায়ে মকবুল হোসেনের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া তার স্ত্রী সালেহা বেগমের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একইসঙ্গে ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫২০ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেয়। রায়ের সময় দুইজনই আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
২০১৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হুদা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি মকবুল হোসেন ১৯৭৮ সালের ১ জুলাই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক পদে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি সুপারিন্টেনডেন্ট পদে পদোন্নতি হন এবং ২০০৯ সালে ২৯ মে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। চাকরি সময়ে অবৈধ উপায়ে নিজের, স্ত্রী সালেহা বেগমের নামেসহ নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। এ সম্পদের হিসাব চেয়ে ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টম্বর মকবুল দম্পতির কাছে নোটিশ দেয় দুদক। ১৮ সেপ্টম্বর উপ-পরিচালক দুদকের কাছে হিসাব বিবরণী জমা দেন। কিন্তু ৯টি কলাম পূরণ করলেও ১৩টি কলাম পূরণ না করে তিনি অসামঞ্জস্য একটি হিসাব বিবরণী জমা দেন।
যশোর শহরের বারান্দীপাড়ার বাড়িসহ বেশ কিছু সম্পদ অর্জনের আয়ের উৎস এবং কার নামে কী পরিমাণ রয়েছে তাও উল্লেখ না করেই প্রতিবেদন জমা দেন। এ অবস্থায় বাড়ি ঘরের তথ্য ও সম্পদের মূল্য জানতে ২০১৫ সালের পহেলা জুন যশোর পৌরসভার মেয়রকে চিঠি দেয় দুদক। পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) শিকদার মোকলেচুর রহমান এবং কার্য-সহকারীদের (বাড়ি/ঘর) সমন্বয়ে সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে ৬ এপ্রিল দুদকে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে হিসাবের গড়মিল পাওয়া যায়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, মকবুল হোসেন ও তার স্ত্রী সালেহা বেগমের নামে বাড়ি ও দোকানের মূল্য দেখান ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু, প্রকৃত মূল্য ২৮ লাখ ১৮ হাজার ৫২০ টাকা। এতে ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫২০ টাকা ৩১ পয়সা তথ্য গোপন করেন। মামলাটি বাদী নিজেই তদন্ত করেন ২০১৬ সালের ২৮ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেন। সর্বশেষ সোমবার আদালত এ রায় ঘোষণা করে।