ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ গেল মা-মেয়ের, হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন বাবা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২৯, ১১ জুন ২০২২
৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ গেল মা-মেয়ের, হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন বাবা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর প্রায় ৪ ঘণ্টা পর মারা গেল মেয়ে জয়াও (১১)।

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়ার মৃত্যু হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় দিকে মারা যান মা রিনা খাতুন (৩০)। 

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহত জয়ার বাবা ও রিনার স্বামী আশরাফুল ইসলাম জনি (৩৬)।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. আশরাফুল আলম এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, মায়ের মৃত্যুর প্রায় চার ঘণ্টা পরে রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়ার মৃত্যু হয়। তার বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা মোটামুটি ভালো।

আশরাফুল ইসলাম জনি কুষ্টিয়া হাউজিং সি ব্লকের আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মোটরগাড়ি মেকার।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কাভার্ডভ্যানটি মোটরসাইকেলটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মা ও মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে পাংশার মাছপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া হাউজিংয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর নন্দনালপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পৌঁছান। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যান ওভারটেক করতে গিয়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলে স্ত্রী রিনা খাতুনের মৃত্যু হয়।

আরও জানা গেছে, এ ঘটনায় জনি ও তার সন্তান জয়া আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে আহত আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক মোটরসাইকেল করে আমি, দুই মেয়ে ও বাড়িওয়ালা (স্ত্রী) মিলে চারজন আসছিলাম। হঠাৎ একটি গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দিলে আমরা সড়কে পড়ে যাই। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আমার স্ত্রী মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে জয়াও মারা যায়।

চৌড়হাঁস হাইওয়ে থানার ওসি ইদ্রিস আলী বলেন, মোটরসাইকেলে চারজন ছিলেন। ঘটনাস্থলে স্ত্রী রিনা মারা যান। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে জয়াও মারা গেছেন।

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। কাভার্ডভ্যানটি টোলপ্লাজা এলাকা থেকে জব্দ করা হয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!