ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ইমাম পরিবর্তন নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২১, ২২ এপ্রিল ২০২২
ইমাম পরিবর্তন নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫
সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল হান্নান- ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুরে মসজিদের ইমাম পরিবর্তন করা নিয়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় ঐ উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের দারগ্রাম জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন- দারগ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে সাইদুল ইসলাম ও মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুল হান্নান।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈকত হোসেন ও সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল করিম দারুগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করসছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তসহ শুক্রবারের জুম্মার নামাজও পড়ান তিনি। তবে রমজানের তারাবিহ নামাজের জন্য নতুন ইমাম নিয়োগ দেওয়ার দাবি তোলেন মুসল্লিরা। এক পর্যায়ে তারাবিহ নামাজের জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়।

তারা আরো বলেন, ইমাম নিয়োগ দেওয়া নিয়ে দারুগ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ আব্দুল করিমকে মসজিদের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে। আরেক পক্ষ এর প্রতিবাদ করে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এ বিরোধ নিষ্পত্তি করতে জুম্মার নামাজের পর বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু নামাজের জন্য মসজিদে এসেই দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ইমাম আব্দুল করিম হুজুর নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফেরদৌস, জামিল ও আরিফ তাদের লোকজন নিয়ে হুজুরকে মারার জন্য এগিয়ে যায়। ঐ সময় আমিসহ উপস্থিত মুসল্লিরা বাধা দিলে তারা আমাদের বেধড়ক পেটায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

মুসল্লিদের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে জামিল আহম্মেদ বলেন, ইমাম পরিবর্তন করার জন্য একাধিকবার বলার পরও সেটি মানা হয়নি। জুম্মার নামাজের সময় কথাটি আবারো বলা হয়। কিন্তু সাইদুলসহ কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে তাদের ৪-৫ জন লোক আহত হয়েছে।

শেরপুর থানার এসআই সাচ্চু বিশ্বাস বলেন, সংঘর্ষের পর থেকেই আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। বর্তমানে পরিস্থিত স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!