বাল্কহেডের ধাক্কায় ভেঙে পড়ল ১৮ কোটি টাকার নির্মাণাধীন ব্রিজের স্টেজিং
নোয়াখালীর কবিরহাটের ধানশালিক ইউপির চাপরাশির খালের ওপর ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চরএলাহী ব্রিজের স্টেজিং বালুবাহী বাল্কহেডের আঘাতে ভেঙে পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে।
এর আগেও তিনবার বালুবাহী বাল্কহেডের আঘাতে ব্রিজের দুইটি গার্ডারে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ধানশালিক ইউপির চাপরাশি খালের ওপর নির্মাণাধীন চরএলাহী ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর ডিসি দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে চরএলাহী বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৭ মিটার দৈর্ঘ্য এ ব্রিজের নির্মাণের কাজ শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স মাহমুদুর রহমান এ কাজটি করছেন।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ইউছুফ ইউহানা বলেন, চাপরাশিরহাট ও কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের অসাধু বালু ব্যবসায়ী খুরশিদ, শাহজাহান ও সোহেল অবৈধভাবে কোনো সেফটি ছাড়া বলগেটে করে চাপরাশি খালে বালু নিয়ে আসে। এরপর সেফটি ছাড়া বাল্কহেড রেখে যায়। এরপর বাল্কহেড জোয়ারে ভেসে এসে নির্মাণাধীন ব্রিজের গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্টেজিং ভেঙে পানিতে তলিয়ে নিয়ে যায়। ব্রিজটি এখন হুমকির মুখে আছে। বড় গার্ডারটা যে কোন মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। এ ঘটনায় প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর আগেও
ম্যানেজার ইউছুফ আরো জানান, এখন পর্যন্ত নির্মাণাধীন ব্রিজের ৭টা গার্ডারের কাজ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ খালে প্রচণ্ড স্রোত এবং বালুবাহী জাহাজ অদক্ষ চালকের কারণে আরো ৩ বার নির্মাণাধীন গার্ডারগুলোকে আঘাত করে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিনা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল মামুনের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্যাহ বলেন, বিষয়টি জেনে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একাধিকবার বালুবাহী বাল্কহেড নির্মাণাধীন ব্রিজের স্টেজিংয়ে আঘাত করায় আগামী বর্ষার আগে কাজটি সন্তোষজনক পর্যায়ে আনা কষ্টকর হয়ে পড়বে।
ডিসি দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। ব্রিজটি কোম্পানীগঞ্জ এবং কবিরহাট উপজেলার বর্ডার এলাকায়। দুই কিলোমিটার দূরে বেঁধে রাখা বালুবাহী বাল্কহেড জোয়ারের পানিতে ভেসে এলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।