ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ভালোবেসে বিয়ে করেও বাধা হলো না ঘর, প্রাণ দিলেন নবদম্পতি

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:০২, ২২ মার্চ ২০২২
ভালোবেসে বিয়ে করেও বাধা হলো না ঘর, প্রাণ দিলেন নবদম্পতি
জান্নাত ও সবুজ

ছেলে দিনমজুর, মেয়ে কলেজছাত্রী। ভালোবেসে বাড়ি থেকে পালিয়ে করলেন তারা বিয়ে। উঠলেন ছেলের বাড়িতে। নতুন স্বপ্ন ছিল তাদের চোখজুড়ে। কিন্তু হলো তাদের ঘর বাধার স্বপ্ন পূরণ। বিয়ের পরে তাদের করা হলো আলাদা। অভিমানে নিজ নিজ বাড়িতেই হলেন তারা লাশ। দুই পরিবার ব্যস্ত এখন শেষ বিদায়ের আয়োজনে।

ঘটনাটি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার। মেয়ের পরিবার বিয়ে মেনে না নেয়ায় পালিয়ে বিয়ে করা ওই নবদম্পতি করেন আত্মহত্যা।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকেই তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আত্মহত্যা করেন তারা।

মৃতরা হলেন- উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের দামগারা কারিগরপাড়া গ্রামের ২১ বছর বয়সী সবুজ ও একই ইউনিয়নের মাসিমপুর চালুঞ্জা তালুকদারপাড়া গ্রামের ১৯ বছর বয়সী মার্জিয়া জান্নাত। জান্নাত উপজেলার নামুজা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

সবুজ নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। আর জান্নাত বিষপানে (কীটনাশক) নিজ বাড়িতেই আত্মহত্যা করেন।

জানা গেছে, সবুজ ও জান্নাতের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে পালিয়ে সবুজের কাছে আসেন জান্নাত এবং গোপনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর জান্নাতকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ওঠেন সবুজ। এরই মধ্য জান্নাতের পরিবার বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। সবুজ পেশায় দিনমজুর ও তার পরিবার অস্বচ্ছল হওয়ায় জান্নাতের স্বজনরা এই বিয়ে মানতে পারেনি। তারা ঐদিন সন্ধ্যায় সবুজের বাড়িতে গিয়ে জান্নাতকে জোর করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে রাতে সবুজ ও জান্নাত মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। মুঠোফোনে কথার একপর্যায়ে বিষপান করেন জান্নাত। বিষয়টি বুঝতে পেরে সবুজও আত্মহত্যা করেন।

শিবগঞ্জ থানার এসআই ইমরান হোসেন জানান, সবুজ ও জান্নাত বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। জান্নাতের পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি। এতে অভিমান করে তারা আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!