পেঁয়াজের স্বাদ এখন পাতায়, মেটাবে ঘাটতি
দেশে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন কম। ফলে হঠাই করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় বাজারে, করতে হয় আমদানি। তবে এই সংকট নিরসনে পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে কৃষি গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন এক ধরণের পাতা। যার নাম চিভ। চিভ হলো মসলার একটি জাত। স্বাদ ও পুষ্টি গুণে কোন অংশেই পেঁয়াজের চেয়ে কম নয় এই চিভ।
কৃষি গবেষকরা বলছেন, দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের চাহিদা থাকে প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু বছরে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ২৮ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় বছরে ৭ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে। এই ঘাটতি পূরণ করতে দেশের বাহির থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তবে দেশে পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে চিভ গ্রহণযোগ্যতা পেলে কমবে আমদানি নির্ভরতা।
প্রায় চার বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে বছরজুড়ে চাষ ও ফলনের উপযোগী বারি চিভ-১ নামে মসলার একটি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়। জাতটি ২০১৭ সালে অবমুক্ত হয়। চিভের স্বাদ দেশীয় মসলা পেঁয়াজ-রসুনের মতো। দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে চিভের এই জাত উদ্ভাবন করা হয়। কৃষি গবেষকরা আশা করছেন শিগগিরই দেশে বাণিজ্যিকভাবে চিভের চাষ শুরু হবে।
গবেষকরা বলছেন, পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে চিভ ব্যবহার করা যাবে। ফলে পেঁয়াজের ঘাটতি অনেকটা মেটানো সম্ভব। একই সঙ্গে পেঁয়াজের দামও স্বাভাবিক থাকবে বাজারে। পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে যেমন রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, মেহেরপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ীতে চিভ চাষের সম্ভাবনা আছে। প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন চিভ উৎপাদন হয়। সারা বছরই চিভের চাষ করা যায়। তবে উপযোগী সময় হলো এপ্রিল-মে মাস। চারা রোপনের ৭০-৭৫ দিন পরই গাছ থেকে ফসল (পাতা) সংগ্রহ করা যায়। গাছের গোড়া থেকে ২-৩ ইঞ্চি ওপরে পাতা কেটে ফসল সংগ্রহ করতে হয়। চারা একবার রোপন করলে বছরে চার থেকে পাঁচবার ফসল পাওয়া যায়।
তারা আরো জানান, মসলা ফসল হিসেবে চিভ স্যুপ ও সালাত তৈরিসহ বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে চিভের পাতা, কন্দ ও অপরিপক্ক ফুল সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহতৃ হয়। চিভ হজমে সাহায্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ক্যানসার প্রতিরোধী গুণাগুণও আছে।
দীর্ঘদিন গবেষণা শেষে চিভ নিয়ে সাফল্য পান কৃষিবিজ্ঞানী ড. মো. নুর আলম চৌধুরী। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জে অবস্থিত মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। কথা হয় তার সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনো বাণিজ্যিকভাবে চিভের চাষ শুরু না হওয়ার মূল কারণটা হলো সাধারণ মানুষ পেঁয়াজে অভ্যস্ত। পেঁয়াজের পাশপাশি বিকল্প হিসেবে মসলা জাতীয় ফসল চিভের ব্যবহার শুরু করতে হবে। তাহলে পেঁয়াজের ওপর চাপ কমবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিভের চাষ হচ্ছে। শিগগিরই বাণিজ্যিকভাবে কৃষক পর্যায়েও চিভের চাষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।