বাবার মৃত্যুর দেড় মাসের মাথায় চলে গেলো মেয়েও
বাবার মৃত্যুর দেড় মাস না যেতেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ইমা। ইমাকে হারিয়ে শোকে কাতর পুরো পবিবার। স্বামী ও মেয়েকে হারিয়ে শোকে পুরোপুরি বাকরুদ্ধ ইমার মা ফাতেমা খাতুন।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে ইমা আক্তার রিয়া নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু হয় ইমার। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি মাদাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়।
ইমা উপজেলার সদর ইউপির মিনকিকান্দা গ্রামের মৃত ইছাম উদ্দিনের ছোট মেয়ে। সে আগার অর্নিবান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো।
চিকিৎসকরা বলছেন, ইমার করোনার উপসর্গ ছিলো। পরিবারের দাবি সন্ধ্যায় শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে রাতেই ইমার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরেও মরদেহের কাছ থেকে কোনো নমুনা রাখা হয়নি।
জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হন ইমা। দুই দিন বাড়িতে থেকে কোনো চিকিৎসা দিলেও গতকাল বুধবার বিকেলে সহপাঠিদের সঙ্গে খেলাধুরা করার পর হঠ্যাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরিবারের সদস্যারা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু এর আগেই ইমার মৃত্যু হয়।
ইমার ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, আড়াই মাস আগে বাবা স্ট্রোক করে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। বাবার মৃত্যুর দেড় মাস হয়নি এর মাঝেই ছোট বোনটিকে হারিয়ে ফেললাম। পুরোপুরি সুস্থ ছিলো আমার বোন। গতকাল বিকেলেও সবার সঙ্গে খেলাধুলা করেছে, কথা বলেছে। হঠাৎ করেই বলছে শরীর খারাপ লাগছে। তাড়াতাড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। হাসপাতালে ডাক্তার বললেন, শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা হচ্ছে। তাই নেবুলাইজার দিলাম কিন্তু তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডাক্তাররা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম কিন্তু কোনো কিছু বোঝার আগেই বোনটি পৃথিবী থেকে চলে গেলো।
তিনি আরো বলেন, ইমা ১৩ জানুয়ারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করোনার ভাইরাসের ফাইজার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছিল। ১৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার নেয়ার কথা ছিলো।
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে আসার পরপরই তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাতেও তার কোনো শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে কেনো ইমার মৃত্যুর পর করোনা পরীক্ষার জন্য কেনো নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাউকেই পাওয়া যায়নি।