ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বাড়ি গিয়ে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
বাড়ি গিয়ে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
ফাইল ছবি

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কৃষক অজি উল্লাহকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী শাহানারা বেগম বাদী হয়ে সোমবার রাতে এ হত্যা মামলা করেন। মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাহবুবুল করিম। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 

আসামিরা হলেন- লক্ষণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন ও তার ভাই সালেহ আহাম্মদ, একই ইউনিয়নের মড়হ গ্রামের রাজু, ফারুক, মহিন উদ্দিন, সাব্বির, আব্দুল হালিম ও হেলাল।

জানা যায়, সোমবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অজি উল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ গ্রামে ওই কৃষককে পিটিয়ে আহত করা হলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন: চট্টগ্রামে মাদক মামলায় একজনের ৫ বছর কারাদণ্ড

নিহতের চাচাতো ভাই মজিবুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মড়হ বাজার থেকে গ্রামের পশ্চিম পাড়া পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণ করছিলেন। রাস্তাটি পাকা হবে, এজন্য গত কয়েকদিন ধরে মাটি ফেলে এটি সম্প্রসারণ করছিলেন তিনি। সোমবার সকাল ৯টার দিকে মহিউদ্দিন তার লোকজন নিয়ে রাস্তার এক পাশে থাকা অজি উল্লার জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা বড় করার কাজ শুরু করেন। এ সময় অজি উল্লাহ তাকে বাধা দিয়ে বলেন, ‘আপনি রাস্তার দুই পাশ থেকে মাটি কাটেন।’ এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে চেয়ারম্যান সেখানে থেকে চলে যান।

মজিবুর আরও জানান, বেলা ১১টার দিকে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে তার লোকজন নিয়ে অজি উল্লাহর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালান। এ সময় পুরো ঘরে তাণ্ডব চালান তিনি ও তার লোকেরা। একপর্যায়ে প্রাণে বাঁচতে বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন অজি উল্লাহ। সেখান থেকে তাকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে আহত করেন চেয়ারম্যান ও তার লোকেরা। এ সময় অজি উল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে চলে যান। পরে অজি উল্লাহকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী শাহানারা বলেন, আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমার মতো আর কেউ যেন এভাবে বিধবা না হয় এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!