রাতে গাঁজার সঙ্গী, সকালে খুন করে গাড়িতে নিয়েই যাত্রা
ট্রাকের চালক এবং হেলপার দুজনই গাঁজা সেবন করে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে হেলপার আকাশকে নির্দেশ দেন চালক টিপু। তবে উঠতে অনীহা প্রকাশ করেন আকাশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে আকাশকে হত্যা করেন চালক টিপু। গাড়িতে লাশ নিয়েই কুমিল্লায় রওনা করেন চালক। পথেই সুযোগ বুঝে আকাশের লাশ ফেলে পালিয়ে যান তিনি।
১৪ জানুয়ারি রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ১৬ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল এলাকা থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার সুজানগর এলাকার মোতালেব মিয়ার ছেলে। পেশায় একজন খণ্ডকালীন ট্রাক হেলপার।
শুরুতে পুরো ঘটনা ক্লুলেস থাকলেও লাশের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে প্রথমে পরিচয় এবং পরে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। পরে ছদ্মবেশে গ্রেফতার করা হয় চালক আরিফুর রহমান টিপুকে।
বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কখনো চালক, কখনো হেলপার বা ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে খুঁজতে থাকেন সেই ট্রাকচালককে। চালকের নাম পাওয়ার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া যায় তার ঠিকানা। চাল ব্যবসায়ী সেজে কাঙ্ক্ষিত সেই চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সময় অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি ট্রাকসহ চলে আসেন চালক টিপু। পরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। তিনদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে টিপু স্বীকার করেন আকাশকে খুনের কথা। ১ ফেব্রুয়ারি আদালতে জবানবন্দিও দেন তিনি।
স্বীকারোক্তিতে টিপু জানান, ১৩ জানুয়ারি রাতে তিনি এবং আকাশ গাঁজা সেবন করেন। তাদের ট্রাকে ছিল পুরনো বই ও কাগজ, যা রাজধানীর মাতুয়াইলে পৌঁছে দিতে হবে। কুমিল্লা থেকে রওনা হয়ে শুক্রবার রাতে তারা শিমরাইল স্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে রাত্রীযাপন করে পরদিন ১৪ জানুয়ারি ভোরে আকাশকে ঘুম থেকে উঠে গাড়িতে থাকা মালামাল আনলোড করার নির্দেশ দেন টিপু। কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে অনীহা প্রকাশ করে আকাশ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই ট্রাকের মধ্যে আকাশকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যা শেষে ট্রাক নিয়ে মাতুয়াইলে পণ্য খালাস করে পুনরায় কুমিল্লার দিকে রওনা দেন। পথে মহাসড়কে আকাশের লাশ ফেলে পালিয়ে যান।