ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মাহমুদার দেওয়া চা পান করাই কাল হলো বৃদ্ধ হাফিজারের

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১৯, ২৯ জানুয়ারি ২০২২
মাহমুদার দেওয়া চা পান করাই কাল হলো বৃদ্ধ হাফিজারের
গ্রেফতারকৃত মাহমুদা ও তার এক সহযোগী

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দর থেকে সোনাতলা উপজেলার বালিয়াদিঘী যাওয়ার জন্য হাফিজার রহমানের অটোভ্যান ভাড়া করেন মাহমুদা বেগম। পথে ডাকুমারা বন্দরে চা পান করার কথা বলে ভ্যান দাঁড় করান মাহমুদা। সেখানে ভ্যান চালক হাফিজারকে চা পান করতে বলা হয়। এবং কৌশলে হাফিজারের চায়ের মধ্যে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো হয়।

চা পান শেষে হাফিজার ভ্যানসহ যাত্রীদের নিয়ে রওনা দেন। কিছুদূর যেতেই অচেতন হয়ে পড়েন চালক হাফিজার। পরে যাত্রীর বেশে থাকা মাহমুদা ও তার সহযোগীরা চালককে রাস্তায় ফেলে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। মাহমুদার সহযোগীরা হাফিজার পেছনে আরেকটি ভ্যানে যাত্রীর বেশে ছিলেন।

এমন ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর। ৭০ বছর বছর বয়সী হাফিজার ঐ উপজেলার মেঘাখর্দ্দ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ঐদিন বিকেলে ৫টার দিকে হাফিজার রহমানের ভ্যান ভাড়া করেন মাহমুদা, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান। রাত ১০টার দিকে ডাকুমারা এলাকা থেকে হাফিজারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ভোরে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় গত বছরের ২০ ডিসেম্বর নিহত হাফিজারের ছেলে আমিনুল ইসলাম শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ঐ মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত চারজন হলেন- একই উপজেলার রহবল গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম মগা, গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর বাসিন্দা মজনু মণ্ডল, তার স্ত্রী মোছা. মাহমুদা বেগম ও একই এলাকার মজনু। সাইদুলকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরদিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং হাফিজারের ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাইদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। তারা মানুষকে অজ্ঞান করে জিনিসপত্র লুটপাট করে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!