ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

লোভ দেখিয়ে কিডনি-লিভার হাতিয়ে নিয়ে পাচার করতো তারা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩০, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১
লোভ দেখিয়ে কিডনি-লিভার হাতিয়ে নিয়ে পাচার করতো তারা
আটককৃত তিন পাচারকারী

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার ও কিডনি-মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচারের আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করেছে র‍্যাব। শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতীয় ভিসা অফিস এলাকা থেকে তাদের আটক করা  হয়।

আটককৃতরা হলেন- মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বাসুদিয়া এলাকার মো. মতিউর রহমান শেখের ছেলে মোহাম্মদ আলী ডালিম, কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার আখড়া বাজার এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আতিকুর রহমান রনি ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের সুম্বুক এলাকার মুজিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মো. আলম হোসেন।

সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার জানান, মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের নামে ভারতে মানবপাচার করে আসছে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চক্র- এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলশী থানার ইন্ডিয়ান ভিসা অফিস এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই সময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়।

সাইফুল ইসলাম নামে এক অসহায় ব্যক্তিকে সাড়ে চার লাখ টাকায় কিডনি বিক্রিতে উদ্ধুদ্ধ করছিল চক্রটি। মূলত ওই ব্যক্তিকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে ভিসা সংক্রান্ত কাজে সহযোগীতায় ব্যস্ত ছিল তারা। ওই সময় হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

নুরুল আবছার আরো জানান, আটককৃতদের মধ্যে রনি আর্ন্তজাতিক কিডনি ও লিভার পাচারকারী চক্রের সদস্য। বাংলাদেশে চক্রটির মূলহোতা ডালিম। ভারতে অবস্থান করা শাহিন নামে এক বাংলাদেশী রনি, আলমসহ চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে কিডনি ও লিভারের ডোনার সংগ্রহের পর তাদের ভারতে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে ডোনারদের চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা দেয় তারা। অন্যদিকে, ভারতে সেসব কিডনি ও লিভারের বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ১৫-২০ লাখ টাকা।

আটককৃতরা প্রথমে কিডনি ডোনেট সেন্টারসহ বিভিন্ন নামে ফেসবুকে পেজ চালু করে। সেই পেজে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে কিডনি ও লিভার বিক্রির প্রলোভন দেখায়। সেই প্রলোভনে কেউ সাড়া দিলে তাকে পাসপোর্ট ও ভারতীয় ভিসা লাগানোর সব ব্যবস্থা করে দেয়। পাশাপাশি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে করা হয় রক্ত, কিডনি ও লিভার পরীক্ষা। এরপর সবকিছু ঠিক থাকলে করা হয় ভারতে পাচার।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা আরো জানান, ভারতে পৌঁছানোর পর সেখানে অবস্থান করা শাহিন ভুক্তভোগীদের পুনরায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করায়। পরীক্ষা শেষে তাদের কাছ থেকে কিডনি ও লিভার সংগ্রহের ব্যবস্থা করে। চক্রটি এভাবে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০-৪০ জনকে প্রলোভনে ফেলে ভারতে পাচার করেছে। কিডনি/লিভার প্রদানের পর অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার নজিরও রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!