সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে ব্ল্যাক মেইল, ৩ প্রতারক আটক
প্যান্টের ব্যাল্টের সঙ্গে ঝুলছে একটি পত্রিকার পরিচয় পত্র। বুক পকেটে রাখা আরো এমন দু’টি পরিচয় পত্র। এতে শেষ নয় পকেট থেকে শুধু পরিচয় পত্র নয়, পত্রিকার সম্পদকের সিল মোহর, পত্রিকার খালি প্যাড, ইয়াবা, বিরোধী দলের প্যাড, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর ভিজিটিং কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে মানুষকে ব্ল্যাক মেইলিং করে টাকা আদায় করাই তাদের উদ্দেশ্য। এমন তিন সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারী প্রতারককে আটক করেছে রসুলবাগ এলাকার যুবকরা। পরে রোববার রাতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আটক ৩ যুবক হলেন আব্দুল কাদির, তাইমুল ইসলাম ও আলামিন সোহাগ।
রসুলবাগ এলাকার স্থানীয়রা জানান, আমাদের এলাকার প্রতিটি প্রবেশ মুখে আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এলাকা থেকে মাদক, ছিনতাইকারী দূর করতেই সমাজের মুরব্বিরা এর ব্যবস্থা করেছেন। এলাকায় অপরিচিতদের প্রবেশ দেখলেই তাকে প্রশ্ন করেন আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ডরা। সন্ধ্যায় এই তিন যুবককে দেখে প্রথমে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। নিজেদের একটি জাতীয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে এলাকার মুরব্বিদের চাপে দেখাতে বাধ্য হন।
দুর্নীতি রিপোর্ট নামে একটি পত্রিকার পাঁচটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয় তাদের কাছ থেকে। এরমধ্যে একটি মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয়পত্রও ছিল। এদের মধ্যে আব্দুল কাদির ওই পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন।
আর আলামিন বার্তা সম্পাদক ও তাইমুল যুগ্ম বার্তা সস্পাদক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। এছাড়াও তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ২০ ইয়াবা, একটি গ্যাস লাইট, পত্রিকার খালি প্যাড, পত্রিকার সম্পাদকের সিল, বিরোধী দলের প্যাড, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর ভিজিটিং কার্ড ও জাতীয় পরিচয় পত্র উদ্ধার করা হয়। পরে এলাকাবাসী তাদেরকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আটক আ. কাদির বলেন, আমাদের সম্পাদক ইরান মজুমদার আমাদের এ এলাকায় আসতে বলেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। ইয়াবা উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে চলতে গেলে মাঝে মধ্যে নেশা করতে হয়। সব সময় নেশা করি না। মাঝে মধ্যে নেশা করি। পত্রিকার খালি প্যাড ও সিল নিয়ে ঘুরার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এগুলো এমনিতেই রেখেছি।’