ঘরে ঝুলছিল হামিদার লাশ, চিরকুটে লেখা ‘সুমনের কাছে যেতে চাই’
আশুলিয়ায় দুটি কাগজে চিরকুট লিখে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হামিদা নামে ২৭ বছর বয়সী এক পোশাক শ্রমিক। শুক্রবার জামগড়ার রূপায়ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত হামিদা সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিনানূর গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের মা ছিলেন। হামিদার স্বামী ফিরোজ একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে থেকেই রিকশাচালক স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি। তবে বাসা পরিবর্তন করে মাত্র এক সপ্তাহ আগে আশরাফের বাড়িতে বাসা ভাড়া নেন তারা।
প্রতিবেশীরা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে বাসায় খাবার খেয়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে যান ফিরোজ। বাচ্চারাও বাইরে খেলেতে চলে যান। এ সুযোগে তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। দুপুরে বাসায় খেতে এসে দরজা বন্ধ পান ফিরোজ। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে হামিদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মৃতের পাশ থেকে হাতে লেখা দুটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।
হামিদার স্বামী ফিরোজ জানান, তার স্ত্রী সংসার ফেলে কিছুদিন আগে সুমন নামের একজনের সঙ্গে বিয়ে করে চলে যান। সন্তানদের কথা ভেবে শ্বশুর-শাশুড়ির মধ্যস্থতায় ফিরিয়ে এনে নতুন করে সংসার শুরু করেন তারা। তবে সুমনের সঙ্গে নিয়োমিত যোগাযোগ রাখতেন তার স্ত্রী। চিরকুটের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী পড়ালেখা জানে না লিখবে কী করে?’
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার এসআই ফরিদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনেছি। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
চিরকুটের ব্যাপারে তিনি বলেন, হাতে লেখা দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে লেখা আছে, ‘আমি সুমনের কাছে ফিরে যেতে চাই, তবে সে নিতে চায় না।’ অন্য একটি চিরকুটে সন্তানকে দেখার জন্য তার মাকে অনুরোধ করেছে। তবে চিরকুট দুটি তার লেখা কিনা তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।