ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পদ্মবিলে দৃষ্টিনন্দন জলময়ূর

নাসিম আজাদ (পলাশ) নরসিংদী।
প্রকাশিত: ১৮:৩৩, ১ নভেম্বর ২০২১
পদ্মবিলে দৃষ্টিনন্দন জলময়ূর
পদ্মবিলে দৃষ্টিনন্দন জলময়ূর ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভা থেকে পূর্বদিকে একদম শেষ প্রান্তে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পদ্মবিল। দেখলে যে কারো নজর কাড়বে। ভেসে থাকা পদ্ম পাতার  ওপর জলময়ূরের ছানাগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। পাখির মাথা ও গলা সাদা। ঘাড়টা রেশমি সোনালি হলুদ। পিঠ চকলেট পাটকিলে। ডানার পাশটা ধবধবে সাদা। দেহের তুলনায় লেজ বেশ লম্বা। কাস্তের মতো বাঁকানো। পেটের নিচটা কালচে। 

এরা শীত মৌসুমে রঙ বদলায়। চকলেট পাটকিল থেকে ফিকে পাটকিলে বর্ণ ধারণ করে এবং বুকের ওপরে ‘ভি’ আকৃতির কালো নেকলেসের মতো দেখা যায়। শীতে এর আরো কিছু পরিবর্তন নজরে পড়ে। যেমন প্রজনন ঋতুতে এদের লেজটা থাকে লম্বা, কিন্তু এ সময় লেজটা তুলনামূলকভাবে খাটো দেখায়। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম; পার্থক্য শুধু আকারে। স্ত্রী পাখি পুরুষের তুলনায় খানিকটা বড়। 

জলময়ূরের প্রধান খাবার শষ্যদানা, জলজ ফল ও কীটপতঙ্গ। সাধারণত এদের বিচরণ জলাশয়ে। এরা ডাঙ্গায় কম বিচরণ করে। এখন সে রকমটি আর দেখা যায় না। শিকারিদের অধিক দৌরাত্বের কারণে এ প্রজাতির পাখির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। 

জলময়ূরের প্রজনন সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর। এ সময় এরা ‘মিই-ও-মিই-ও’ সুরে ডাকাডাকি করে। প্রজনন ঋতুতে জলময়ূরি হণ্যে হয়ে পুরুষ জলময়ূরকে খুঁজতে থাকে। এ সময় অন্য জলময়ূরির সঙ্গে যে কোনো জলময়ূরের ঘোরাফেরা করতে দেখলে প্রচণ্ড হিংসা হয় এদের। দুই ময়ূরির মাঝে ঝগড়া বেঁধে যায়। পরিশেষে জিতে যাওয়া জলময়ূরির সঙ্গে জলময়ূরের মিলন ঘটে। ঘর বাঁধার সপ্তাহ খানেক পরে জলে ভাসা লতাগুল্মের ওপর বাসা বানিয়ে জলময়ূরি ডিম পেড়ে পালিয়ে যায়। 

প্রজনন ঋতুতে একেকটি ময়ূরি ৭-৮ বার ঘর বাঁধে এবং ডিম দিতেও দেখা যায়। প্রতিবার ২-৪টি করে ডিম দেয়। ডিমে তা দেয়াও বাচ্চাদের দেখভালের দায়িত্ব পুরুষ পাখিকে নিতে হয়। শিকারিদের দৌরাত্ব কমাতে ও অভয়ারণ্য হিসেবে পদ্মবিলকে দ্রুুুত চিহ্নিত করে  জলময়ুর রক্ষা করতে এলাকাবাসী দাবি জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!