হিমছড়ি-সমিতিপাড়ার ৬ একর ঝাউবাগান দখলমুক্ত করল বনবিভাগ
কক্সবাজার সৈকতের সমিতিপাড়া ও হিমছড়ি পয়েন্টের ঝাউবাগান দখল করে গড়ে ওঠা বসতি অবশেষে উচ্ছেদ করেছে বনবিভাগ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নতুন এসব বসতি তুলে দেওয়া হয়। সম্প্রতি সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝার রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ঝাউবীথি কেটে এসব ঝুপড়ি তোলে দখলদাররা।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা জানান, কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী থেকে উত্তরে নাজিরারটেক পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বালিয়াড়ি রক্ষাকবচ ঝাউবাগান। ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে উত্তর দিকের পুরোনো বাগানগুলোর বেশিরভাগ ঝাউ গাছ দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়েছিল। আর জলোচ্ছ্বাসের ঢেউয়ে তলিয়ে যায় কিছু গাছ। এরপর আবারো চারা লাগিয়ে সৃষ্টি করা হয় ঝাউবাগান। বর্তমানে গাছগুলো ৫-১০ ফুট লম্বা হয়েছে। এরই মাঝে ঝাউবাগানের গাছ কেটে জমি দখলে নিয়ে তোলা হচ্ছে ঝুপড়ি ঘর। গত সেপ্টেম্বরে বেশ কয়েকজন ১৫-২০ শতক করে জমি দখলে নিয়ে ঝুপড়ি তুলছে।
তিনি আরো জানান, বনবিভাগকে বেকায়দায় ফেলতে প্রচার করা হয় ঝাউবাগান রক্ষায় গঠন করা কমিউিনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে কস্তুরাঘাট বিট কর্মকর্তা জমি দখল ও ঘর বাবদ আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রচার হলে তা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নজরে আসে। তার নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযানে নামে বনবিভাগ। দিনব্যাপী সমিতিপাড়া ও হিমছড়ি এলাকার এক ডজনের বেশি ঝুপড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এতে প্রায় ৬ একর বনভূমি দখলমুক্ত হয়।
অভিযানে অংশ নেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (সদর) মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, কক্সবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা, কলাতলী, হিমছড়ি, কস্তুরাঘাট ও ঝিলংজা বিট অফিসের কর্মকর্তা-বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা।
জানা গেছে, সৈকত তীরের জমির মালিক জেলা প্রশাসন। কিন্তু ঝাউবাগান বনবিভাগের উদ্যোগে করা হয় বলেই জমির দেখভালও তাদের দায়িত্বে পড়ে। মাস দুয়েক আগে একটি দুর্ঘটনায় সদর রেঞ্জার মারাত্মক আহত হয়ে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে ছিলেন। এরই মাঝে টহল কমে যাওয়ায় ঝাউবাগানের কিছু অংশ দখল করে স্থানীয়রা।