ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সান্ত্বনা জানাতে উপহার নিয়ে নিহতের বাড়িতে তদন্ত কর্মকর্তা 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১
সান্ত্বনা জানাতে উপহার নিয়ে নিহতের বাড়িতে তদন্ত কর্মকর্তা 
নিহত শাহিন আলমের বাড়িতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাগর সিকদার

হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাগর সিকদার ছুটে গেলেন নিহত হওয়া যুবক শাহিন আলমের বাড়ি। সঙ্গে পরিবারের সবার জন্য নিয়ে যান জামা-কাপড়। নিহতের রেখে যাওয়া ১১ মাস বয়সের শিশু মরিয়মকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন, আর হাতে দেন উপহার। 

এমনকি  দ্রুততম সময়ে হত্যাকারীদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও অভিযোগপত্র দেওয়ায় পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে পাওয়া উপহারের ৫ হাজার টাকাও তিনি পরিবারটির হাতে তুলে দিয়েছেন।  

মঙ্গলবার দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাগর সিকদার নিহত শাহিন আলমের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে যান এবং উপহার তুলে দেন। এ সময় মামলার বাদী চাঁদ আলী কান্নাকন্ঠে জানান, তার ছেলে চলে গেছে। এরপর মামলার সূত্রে পরিচয় হয় পুলিশ কর্মকর্তা সাগর সিদকারের সঙ্গে। তার কর্মকাণ্ড ও আলাপ-ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে নিজের ছেলের জায়গায় স্থান দিয়েছেন। 

Advertisement

তিনি আরো জানান, মামলা তদন্ত করতে গিয়ে কখনও কাউকে হয়রানী করেননি। কারো কাছে টাকা-পায়সা দাবি করেনি। আরো সাধ্যমতো তাদের সহযোগিতা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা উদ্ধার করে এক সপ্তাহের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করেছেন। এখন চার্জসিট দিয়ে তার বাড়িতে ছুটে এসেছেন।  

গত ৬ জুন সকালে বালিয়াডাঙ্গা বাজারের পাশে একটি কলার ক্ষেতে ব্যবসায়ী শাহিন আলমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠান। শাহিন আলমের বালিয়াডাঙ্গা বাজারে লেদ-গ্রিলের ব্যবসা ছিল। 

নিহতের বাবা চাঁদ আলী জানান, ৫ জুন রাত ১১ টার দিকে তার ছেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিল। পথে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে একটি কলা  ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। ছেলের মৃত্যুর পর তিনি পুত্রবধূ তানিয়া খাতুন ও তাদের ১১ মাস বয়সের একমাত্র কন্যা মরিয়মকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তিনি এই হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেছেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার এসআই সাগর সিকদার জানান, হত্যাকাণ্ড ছিল সবার অজানা। যাকে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো শত্রু ছিল না। তাছাড়া হত্যাকারীরা মোটিভ ঘোরাতে নিহত শাহিন আলমকে উলঙ্গ করে ফেলে রেখে যায়। এতে তারাও প্রথমে ধারণা করেছিল নারী ঘটিত কোনো ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে টাকার ওপর রক্তের দাগ থেকেই মাত্র ৭ দিনের মধ্যে তিনি এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বের করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্ড়ে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতর করতে সক্ষম হয়েছেন। যার মধ্যে একজন একই এলাকার মমিন উল্লাহর ছেলে জসিম উদ্দিন বাবু আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনা স্বীকার দিয়েছেন। অন্য আসামি হলেন সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান বাবুল। তারা টাকা ছিনতাই করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ৩১ আগস্ট ওই ২ জনকে অভিযুক্ত করে মামলার চার্জসিট জমা দিয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সাগর সিকদার জানান, একটি হত্যাকাণ্ডে একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের আশায় থাকেন পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা পাবার। তিনি পরিবারটির সকল প্রকার সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে দ্রুত সময়ে হত্যার কারণ উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার করেছেন। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানী না হন সে দিকটাও খেয়াল করেছেন। 

তিনি জানান, পরিবারটির যে ক্ষতি হয়েছে তা পুরণ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে চার্জসিট জমা দিয়ে তাদেরকে সান্তনা দিতে বাড়িতে উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ সুপারের কাছ থেকে পাওয়া পুরষ্কার তিনি পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে খুশি বলে জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকার অনেকে আতংকিত ছিলেন। কে কখন হয়রানীর স্বীকার হন সেই আতঙ্ক ছিল সবার মধ্যে। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সততা ও নিষ্ঠার কারণে কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানীর স্বীকার হননি। দ্রুত আসামি গ্রেফতার হয়েছেন, আবার দ্রত সময়ে চার্জসিটও দিয়েছেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত খুশি। এখন তারা আসামিদের উপযুক্ত শাস্তির প্রত্যাশা করছেন।

কালীগঞ্জ থানার এই কর্মকর্তা এর আগে রাস্তার পাশে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে থাকা এক হুনুমান বাঁচিয়ে এলাকায় সাড়া ফেলেছিলেন। চলতি বছরের ২৪ জুন কালীগঞ্জ শহরের গান্না সড়কে পড়ে থাকা ওই হুনুমানকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগের হাতে তুলে দেন।      

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!