শাকপাতায় এলাচি বেগমের জীবন-জীবিকা
এলাচি বেগম, বয়স প্রায় ৫০ বছর। যে বয়সে বিশ্রামে থেকে দিন অতিবাহিত করার কথা কিন্তু সেই বয়সে সবজি বিক্রি করে তাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। বেঁচে থাকার তাগিদে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিভিন্ন রকমের শাকপাতা বিক্রির ব্যবসা।
রাত সোয়া ৯টা। বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের উকিল পট্টিতে দেখা মেলে এলাচি বেগমের সঙ্গে। বড় একটি সাজিতে ও প্লাস্টিকের ব্যাগে বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি পায়ে হেঁটে হেঁটে বিক্রি করছেন এলাচি বেগম। বয়সের ভারে তার শরীরের জমেছে অনেক রোগ বালাই। স্বামী পরিত্যক্তা ৫০ বছরের এই বৃদ্ধা প্রতিদিনই শাক-সবজি বিক্রি করে দিনরাত পরিশ্রম করে সংসার চালাচ্ছেন। সিডরের আগেই স্বামী রুহুল আমিন দেড় বছরের কন্যা সন্তান রুবিসহ ফেলে রেখে চলে যান। সেই থেকেই পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রামে এক পাতানো আত্মীয়ের বাড়িতে একটি কুড়ে ঘরে থাকেন তিনি।
কথা হয় এলাচি বেগমের সঙ্গে। ছবি তুলতেই হেসে বললেন, ‘ছবি তো তুলবেনই নষ্ট ওড়নাটা মাথায় দিয়া লই। মোগো গরিবের ছবি তুইল্যা কি অইবে। ১৩ বছর ধইর্যা হাগপাতা বেইচ্যা খাই। ভাগ্য বদলায় নাই।’
এলাচি বেগম বলেন, সিডরের আগে আমার স্বামী দেড় বছরের একটা মাইয়াসহ আমারে ফালাইয়া রাখিয়া চইল্যা যায়। পরে মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা ইউনিয়নের ঝাটিবুনিয়া গ্রামের শশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসি। বাবার কোনো জমিজমা না থাকায় এবং আমার আপন কোনো ভাই না থাকায় একই গ্রামের এক পাতানো ভাইয়ের বাড়ির বারান্দায় থাকি। অনেক কষ্ট করে মেয়েডারে বড় কইর্যা বিয়া দিছি। স্বামী ছাড়া থাকাটা যে কত কষ্টের তা আমি হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি।
সংসার কীভাবে চলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই গ্রামের ছোট ছোট বাজারে এবং পাথরঘাটা বাজারে এসে সবজি বিক্রি করি। একদিন পর একদিন গ্রাম থেকে কচুশাক, কলমি শাক, হেলঞ্চা শাকসহ বিভিন্ন সবজি তুলে আনি আর মাঝে মধ্যে অন্যের কাছ থেকে কম দামে সবজি ক্রয় করে তাও বিক্রি করি। দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ হয়। তা দিয়াই পেট চালাই।’
এলাচি বেগম অশ্রুশিক্ত হয়ে বলেন, ‘বাবা অনেক কষ্ট হয় এই বয়সে বিভিন্ন হানে যাইয়া হাগপাতা তুলতে। আবার অনেকে বলে ভিা আর অন্যের বাড়িতে কাম হরতে পারোনা? মুই ব্যবসা কইরা খাই। সরকার মানষের কত কিছুই দেয়, আমার লইজ্ঞা যদি হ্যারা কিছু করতে তাইলে আমার অনেক উপকার হইতো।’