তরকারির পাতিলে মুখ দিল বিড়াল, স্ত্রীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল স্বামী
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে আব্দুস কুদ্দুস শাওন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে স্ত্রী সেলিনা বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় রোববার দুপুরে স্বামী আব্দুস কুদ্দুস শাওনকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহত সেলিনা বেগম। এর আগে, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শাওন ২ নম্বর ওয়ার্ডের দবিয়ার রহমানের ছেলে। আহত সেলিনা একই উপজেলার পশ্চিম বেজগ্রাম এলাকার নূর ইসলামের মেয়ে।
চিকিৎসাধীন সেলিনা বেগম জানান, আট বছর আগে এক লাখ টাকা যৌতুক ধার্য করে শাওনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর তাদের ঘর জন্ম নেয় ফুটফুটে ছেলে সন্তান। চার বছর বয়সের ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে ভালোই চলছিল সংসার। এরই মধ্যে ফের তাকে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলেন শাওন। এতে রাজি না হলে তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন।
শুক্রবার দুপুরে সেলিনাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকেন শাওন। এতেও রাজি না হলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিনার ওপর হামলা চালান। এ সময় তার চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী। পরে প্রতিবেশীরা সেলিনাকে আহত অবস্থায় বাড়ি বাইরে পড়ে থাকতে দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস কুদ্দুস শাওন বলেন, যৌতুকের কারণে আমার স্ত্রীকে মারধর করা হয়নি। ঘরে থাকা মাছ বিড়াল খেয়েছে বলে তাকে মারধর করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই গৃহবধূ। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।