ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শীতের আগমনী বার্তা দেয় আইয়ুব আলীর ভাপা পিঠা

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:০০, ১৮ নভেম্বর ২০২০
শীতের আগমনী বার্তা দেয় আইয়ুব আলীর ভাপা পিঠা
ফুলবাড়ি বাজারে ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন আইয়ুব আলী, তাকে সহযোগিতা করছে স্কুলপড়ুয়া মেয়ে তুলি

আইয়ুব আলী। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা কদমতলা গ্রামের এ ব্যক্তি ভাপা পিঠা বিক্রি করেই সংসার চালান তিনি। ৩০ বছর ধরে প্রতি শীত মৌসুমের তিন মাস সকাল ও বিকেলে ফুলবাড়ী বাজারে ভাপা পিঠা তৈরি ও বিক্রি করেন আইয়ুব। তিনি পিঠা নিয়ে বসলেই এখানকার মানুষ টের পায় শীত আসছে। এক কথায়, শীতের আগমনী বার্তা দেয় আইয়ুব আলীর ভাপা পিঠা।

ফুলবাড়ী উপজেলার সবার কাছেই দরিদ্র্য আইয়ুবের ভাপা পিঠার সুনাম রয়েছে। ফুলবাড়ী বাজারের পাশে দোকান বসালেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ আসতে শুরু করে আইয়ুব আলীর দোকানে। অনেকে তো এই ভাপা পিঠা দিয়েই নিজের ও পরিবারের সকালের নাস্তা করেন।

স্থানীয় মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, শীত এলেই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আইয়ুব আলীর গরম ভাপা পিঠা দিয়ে সকালের নাস্তা করি। এ পিঠা বেশ সুস্বাদু। আমাদের মতো অনেকেই খেয়ে তৃপ্তি পায়।

একই এলাকার বৃদ্ধ জহুরুল হক বলেন, আমি প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হই। বাড়ি থেকে হেঁটে ফুলবাড়ী বাজারে এসে আইয়ুবের ভাপা পিঠা দিয়ে নাস্তা করি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্ত্রী-দুই মেয়েসহ আইয়ুব আলীর চার সদস্যের পরিবারের জন্য আয়ের একমাত্র উৎস এই ভাপা পিঠা। শীতের তিন মাস পিঠা বিক্রি করে বছরের বাকি ৯ মাসের ধার-দেনা শোধ করার পাশাপাশি সংসার চালান হতদরিদ্র আইয়ুব। ভাপা পিঠা বিক্রি করেই বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। ছোট মেয়ে তুলি পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাকে দোকানে সহযোগিতা করে।

ভাপা পিঠা বিক্রেতা আইয়ুব আলী বলেন, আমার সম্পত্তি বলতে ২ শতাংশ জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। জমিটুকুতে ছোট বাড়ি করে স্ত্রী-সন্তানদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছি। ভাপা পিঠা বিক্রি করাই আমার একমাত্র পেশা। প্রতি বছর শীতকালে ভাপা পিঠা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়েই ধার-দেনা মিটিয়ে সংসার চালাই।

প্রতিদিন ১০০০-১২০০ টাকা আয় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, খরচ বাদ দিয়ে ৫০০ টাকার মতো লাভ থাকে। তা দিয়েই এনজিও’র কিস্তি দেয়া, ছোট মেয়ের পড়ার খরচ চালানো, চাল-ডাল কিনতে হয়। এভাবে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়।

আইয়ুব আলী বলেন, গত ৩০ বছরে কারো কাছ থেকে সাহায্য পাইনি। চেয়ারম্যান-মেম্বার ভিজিএফ কার্ডের জন্য টাকা চায় বলে ইউনিয়ন পরিশোধেও যাইনি। বিত্তবানদের কাছ থেকে সাহায্য পেলে স্থায়ীভাবে কিছু করতে পারতাম। এতে ধার-দেনা করা লাগত না, এনজিও’র কিস্তি টানতে হতো না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আরেকটু ভালো থাকতে পারতাম।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!