প্রসূতির অপারেশন করতে গিয়ে কাটল পায়ুপথ, তদন্ত কমিটি গঠন
ফেনী শহরের আল-বারাকা হাসপাতালে প্রসূতির অপারেশন করতে গিয়ে পায়ুপথ কেটে ফেলার ঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সিভিল সার্জনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. রোকসানা বেগম স্বপ্নার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউপির রাজাপুর গ্রামের তোফায়েল আহাম্মদ তপুর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ফেনী আল-বারাকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গাইনী ডা. ফাহমিদা সুলতানার পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক পর্যায়ে রোগীর কোনো অভিভাবককে কোনো কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তব্যরত নার্স লিপিকে দিয়ে রোগীর সিজার করান। সেলাই করার সময় নার্স লিপি প্রসূতির পায়ুপথসহ সেলাই করে দেন। পরদিন রোগীকে বাড়িতে নেয়ার পর ব্যথা বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক ফেনী আল-বারাকা হাসপাতালের ডা. ফাহমিদা সুলতানার কাছে নিয়ে যান।
ডা. ফাহমিদা অভিভাবকদের জানান, হাসপাতালের নার্স লিপি রোগীকে ছোট সিজার করার সময় বিশেষ অঙ্গ কেটে ফেলেছেন। সেলাইটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় রোগী পুরোপুরি ভালো হওয়া সম্ভব নয়। রোগী সুস্থ হলেও অনেক সময় লাগবে এবং রোগীকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।
রোগীর বাবা শাহ আলম রোগীসহ হাসপাতালের এমডি হেলাল উদ্দিনের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানালে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো রোগীর স্বজনদের বিভিন্ন অশালীন ভাষায় গালাগাল করে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে হুমকি দেন।
এমডি হেলাল উদ্দিন বলেন, এর চেয়ে বড় ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছি। আপনাদের এটা কোনো ঘটনাই না। বাড়াবাড়ি করলে ভালো হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়ার কথা বললে তিনি বলেন, তার আগে আপনারা ফেঁসে যাবেন।
হাসপাতালের এমডি হেলাল উদ্দিন বলেন, নার্সরা কখনো সিজার করেন না। আপনারা কি বলতেছেন কিছুই বুঝতেছিনা। তবে একজন রোগীর সেলাইতে সমস্যা হয়েছে এটা কোনো ব্যাপার না। নিয়মিত পরিচর্যা ও ওষুধ খেলে সেরে যাবে। হুমকি দেয়ার ঘটনাটি তিনি অস্বীকার করেন।
হেলাল উদ্দিন আরো জানান, রোগীর অসাবধানতার কারণেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রোগীর বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ৯ নভেম্বর সোমবার বিকেলে ফেনীর সিভিল র্সাজন ও ডিসি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।