নার্স দিয়েই প্রসূতির অপারেশন!
ফেনী শহরের আল-বারাকা হাসপাতাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নার্স দিয়ে প্রসূতির অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুল অপারেশন, হয়রানী ও হুমকি দেয়ার ঘটনায় ফেনীর সিভিল সার্জন ও ডিসি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রসূতির অভিভাবক।
বর্তমানে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের এমডির কাছে অভিযোগ দিলে তিনি উল্টো হুমকি দিয়েছেন বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ।
জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউপির রাজাপুর গ্রামের তোফায়েল আহাম্মদ তপুর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ফেনী আল-বারাকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গাইনী ডা. ফাহমিদা সুলতানার পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক পর্যায়ে রোগীর কোনো অভিভাবককে কোনো কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তব্যরত নার্স লিপিকে দিয়ে রোগীর সিজার করান। সেলাই করার সময় নার্স লিপি প্রসূতির পায়ুপথসহ সেলাই করে দেন। পরদিন রোগীকে বাড়িতে নেয়ার পর ব্যথা বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক ফেনী আল-বারাকা হাসপাতালের ডা. ফাহমিদা সুলতানার কাছে নিয়ে যান।
ডা. ফাহমিদা অভিভাবকদের জানান, হাসপাতালের নার্স লিপি রোগীকে ছোট সিজার করার সময় বিশেষ অঙ্গ কেটে ফেলেছেন। সেলাইটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় রোগী পুরোপুরি ভালো হওয়া সম্ভব নয়। রোগী সুস্থ হলেও অনেক সময় লাগবে এবং রোগীকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।
রোগীর বাবা শাহ আলম রোগীসহ হাসপাতালের এমডি হেলাল উদ্দিনের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানালে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো রোগীর স্বজনদের বিভিন্ন অশালীন ভাষায় গালাগাল করে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে হুমকি দেন।
এমডি হেলাল উদ্দিন বলেন, এর চেয়ে বড় ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছি। আপনাদের এটা কোনো ঘটনাই না। বাড়াবাড়ি করলে ভালো হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়ার কথা বললে তিনি বলেন, তার আগে আপনারা ফেঁসে যাবেন।
জানতে চাইলে হাসপাতালের এমডি হেলাল উদ্দিন বলেন, নার্সরা কখনো সিজার করেন না। আপনারা কি বলতেছেন কিছুই বুঝতেছিনা। তবে একটি রোগীর সেলাইতে সমস্যা হয়েছে এটা কোনো ব্যাপার না। হুমকি দেয়ার ঘটনাটি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রোগীর বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ৯ নভেম্বর সোমবার বিকেলে ফেনীর সিভিল র্সাজন ও ডিসি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।