যে কারণে বেঁচে গেল শিশু মারিয়া!
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউপির খলিসা গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে মাছের ঘের ব্যবসায়ী মো. শাহীনুর রহমান, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি ও মেয়ে তাসমিন সুলতানাকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে চারজনকে হত্যা করলেও শিশু মারিয়াকে মায়ের মরদেহের পাশে ফেলে রেখে যায় খুনিরা। সেখানে পড়ে কাঁদছিল শিশুটি। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
দিনভর এ ঘটনাই ছিল দেশের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর। এরইমধ্যে এ চার খুনের ঘটনা নিয়ে অনেক রোমহর্ষক তথ্যের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, হত্যাকারীর পরিচিত। আর পরিচিত বলেই তারা পাঁচ মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা করেনি। এর পেছনে তাদের যুক্তি হলো যারা তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে তাদের মৃত্যুই নিশ্চিত করেছে হত্যাকারীরা। এমন তথ্যকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ মাসের শিশু মারিয়ার অপরাধীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা এখনো গড়ে উঠেনি। সেই বিবেচনা থেকেই হত্যাকারীরা তাকে হত্যা করেনি। বাকিদের ক্ষেত্রে ছিল হত্যাকারীরা পরিচিত। তাই সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত।
এক রাতেই পরিবারের চারজনকে হারিয়েছে পাঁচ মাসের শিশু মারিয়া সুলতানা। দুর্বৃত্তরা তার মা-বাবা ও ভাই-বোনকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তবে তাকে হত্যা না করে ফেলে রেখে যায়।
নিহত শাহীনুরের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে মা ও বড় ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা আমরা এক সঙ্গে থাকি। বুধবার আমার মা আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। রাতে পাশের আরেকটি ঘরে আমি ছিলাম। ভোরে পাশের ঘর থেকে বাচ্চাদের গোঙানির শব্দ শুনতে পাই। এরপর গিয়ে দেখি তাদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। দরজা খুলে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ভাই, ভাবি, ভাতিজা ও ভাতিজির লাশ। প্রথমদিকে বাচ্চারা বেঁচে ছিল, তবে কিছুক্ষণ পর মারা যায়। মায়ের লাশের পাশে পড়ে ছিল পাঁচ মাস বয়সী মারিয়া।
সাতক্ষীরার অ্যাডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) মির্জা সালাহউদ্দিন জানান, নিজেদের ঘরের মধ্যে চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে শাহীনুরের পা বাঁধা ছিল এবং তাদের ঘরের দরজা খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা ঘরে ঢোকে। এ ঘটনায় মাঠে নেমেছে পুলিশ, র্যাব, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থা।
সাতক্ষীরার এসপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ নির্মম-নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হবে। আমরা তথ্য উপাত্ত নিচ্ছি। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের খুঁজে বের করা হবে।