জালে জড়ানো জীবন
বর্ষা এলেই জেলেদের দুয়ারে জালের কদর বেড়ে যায়। জড়িয়ে পড়ে মাছ ধরা পেশায়। তবে শুকনো মৌসুমে জীবিকার সন্ধানে তারা ভিন্ন পেশায় জড়িত থাকলেও বর্ষায় ফিরে আসে বাপ-দাদার সেই পেশায়।
ঐতিহ্যের এই পুরনো পেশায় থেকে দৈনন্দিন জীবনে সুদিন ধরে রেখেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলেরা।
এদিকে বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায় উপজেলার নদী, খাল বিল জলাশয়ে পানি। এ সুযোগ কাজে লাগাতে ভুলেননি জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন। প্রতিদিনই জাল ফেলে মাছ ধরছেন।
ভবানিপুর, টেংরাপাড়া, দূর্গাপুর, আমোদাবাদ, ধরখারসহ প্রায় দুশতাধিক জেলে নানা প্রতিকূলতা দূলে ঠেলে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘ বছর ধরে বাপ-দাদার পেশাকেই ধরে রেখেছেন। তবে শুকনো মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য কাজ করলে ও বর্ষায় নৌকা দিয়ে জাল দিয়ে ছয়মাস মহানন্দে মাছ ধরছেন। এভাবে দৈনিক ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা উপার্জন হয়।
সরেজমিনে ভবানিপুর ও টেংরাপাড়া গ্রামে দেখা যায়, জেলে পরিবারের লোকজনরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরইমধ্যে কেউ সুই সুতা দিয়ে জালের ছিঁড়ে যাওয়া অংশ ঠিক করছেন, কেউ বা জাল শুকিয়ে নিচ্ছেন।
টেংরাপাড়ায় শ্রী চন্দ্র দাস দুপুরে মনের আনন্দে গুণ গুণ করে গান গাইছেন আর ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন। জাল মেরামত করার ফাঁকে কথা হয় তার সঙ্গে।
তিনি জানালেন, তিন ছেলে দুই মেয়েসহ সাতজনের সংসার। বাবার সঙ্গে ছোটোবেলা থেকেই এই পেশার সঙ্গে জড়িয়েছেন। এখনো এ পেশা ধরে রেখেছেন। যা উপার্জন আসে তা দিয়ে বেশ ভালো চলছে সংসার। ছেলে সহযোগিতা করছেন, দৈনিক ২ হাজার টাকা আসছে।
সুজন চন্দ্র দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৬ মাস মাছ ধরা যায়। এসময় ভালোই চলে সংসার। পানি চলে গেলে মাছ ধরা বন্ধ থাকে তখন কৃষিকাজসহ এলাকায় শ্রমিকের কাজ করা হয়। জাল দিয়ে মাছ ধরাই হলো আসল পেশা। বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে ভালো টাকা আয় করা যায়।
প্রদীপ দাস, সুশান্ত দাস, অতুল দাসসহ বেশ কয়েকজন জেলে জানালেন, তারা বাপ-দাদাকে দেখে নিজেরাও মাছ শিকার করেন। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মাছ শিকার করাই এখন তাদের নেশা ও পেশা। কেউ কেউ এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেলেও তারা ছাড়তে পারেননি। নদী খালে বিলে পানি বেশি স্থানীয় থাকলে মাছ ধরা বেশি সময় পাওয়া যায়। এর ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবন চললে ও তাদের কোনো ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।
আখাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, এ উপজেলার ১ হাজার ৪৪১ জন নিবন্ধিত মৎস্যজীবী রয়েছেন। তাদের সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বড় নেট জাল ছাড়া নদী খাল জলাশয় থেকে ছোটো নেট ও চট জাল দিয়ে পোনা মাছ না ধরতে বলা তাদেরকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট ও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, পোনা মাছ সংরক্ষণ করা গেলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সবার সচেতনতা হওয়া প্রয়োজন।