‘আমার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল’
আমার চাষের জমি বলতে এই ৯ শতাংশ। গত বছর এ জমিতে শসা চাষে করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লোকসান গুনেছি। এবার সেই লোকসান কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে ধার-দেনা করে বেগুন চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল। কয়েকদিন পর ভালো দামে বাজারে বিক্রি করতে পারতাম। দেনাও শোধ হতো, সংসারে স্বচ্ছলতাও আসতো। কিন্ত এখন আমার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার সাইটবাড়িয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক বাপ্পী মোল্লা। কে বা কারা তার ৯ শতাংশ জমির সবগুলো বেগুন গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। বেগুন ক্ষেতে কাটা গাছগুলোর মাঝে বসে কাঁদছেন বাপ্পীর স্ত্রী গোলাপী বেগমও।
রোববার সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা গেছে, ক্ষেতের সব বেগুন গাছ ধারালে অস্ত্র দিয়ে কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই জমিতে বসেই কাঁদছেন কৃষক দম্পতি। তাদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসছে স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী বাপ্পী মোল্লা বলেন, অন্যের জমিতে কামলা দিয়ে সংসার চালাই। নিজের জমি বলতে এই ৯ শতাংশই ছিল। এ বছর ধার-দেনা করে বেগুন চাষ করেছিলাম। কে বা কারা সমস্ত বেগুন গাছ কেটে আমার পাজর ভেঙে দিয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবো, এনজিওর ঋণ, ধার-দেনা শোধ করবো? আমি তো কারো কোনো ক্ষতি করিনি। কারা আমার এত বড় সর্বনাশ করল?
ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে খবর পেয়ে বাপ্পীর বেগুন ক্ষেত দেখে এসেছি। বাপ্পী ও তার স্ত্রীর কান্না সবাইকে ছুঁয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়েছে।
কালীগঞ্জের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ধরন্ত বেগুন গাছগুলো যেভাবে কেটে ফেলা হয়েছে, এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার নয়। ওই কৃষকের পাশে থাকবে কৃষি অফিস।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মতলেবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারাই জড়িত থাকুক, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।