ফেসবুকে বন্ধুত্ব, সাক্ষাতের নামে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি
ফেসবুকে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। এরপর দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে আটকে রেখে মারধর। হাতিয়ে নেয়া হয় সঙ্গে থাকা টাকা, দাবি করা হয় আরো টাকা। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে রক্ষা পান ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি চট্টগ্রামের। সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি এলাকার একটি স্টিল মিলে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করেন রুবেল। তার সঙ্গে প্রথমে ফেসবুকে পরিচয়, এরপর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন নগরীর তামাকুমণ্ডি লেইনের দোকান কর্মচারী সাহেদ।
আরো পড়ুন: পানির পরিবর্তে প্রস্রাব খাইয়ে দিয়েছিলো ওসি প্রদীপ
মঙ্গলবার দেখা করার কথা বলে রুবেলকে রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় ডেকে নেন সাহেদ। এরপর সেখান থেকে সাহেদসহ তার আরো দুই সহযোগী মিলে রুবেলকে নিয়ে আটকে রাখেন একটি রুমে। তাকে মারধর করে হাতিয়ে নেয়া হয় সঙ্গে থাকা এক হাজার ৬শ’ টাকা। তবে এতেও ক্ষ্যান্ত হননি তারা, দাবি করা হয় আরো ৫০ হাজার টাকা।
একপর্যায়ে রুবেল জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধারের পাশাপাশি দুই সহযোগীসহ সাহেদকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া অন্য দুইজন হলেন- গোলাম মোস্তফা ও মো. রুবেল। তারা রিয়াজউদ্দিন বাজার ও জলসা মার্কেটের দোকানের কর্মচারী।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ফেসবুকে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে রুবেলকে রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় ডেকে আনেন সাহেদ। এরপর তাকে তামাকুমণ্ডি লেইনের লবণ মার্কেটের সপ্তম তলার একটি রুমে আটকে রেখে মারধর করেন সাহেদ ও তার সহযোগীরা। এ সময় তারা রুবেলের কাছে থাকা এক হাজার ৬শ’ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আরো ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ দেন। পরে রুবেল বিষয়টি তার ভগ্নিপতিকে (বোনের স্বামী) জানালে তিনি টাকা সংগ্রহের জন্য কিছুক্ষণ সময় চান।
আরো পড়ুন: প্রতিবন্ধী আসাদুলের সময় কাটে মাটির গর্তে
একপর্যায়ে তারা রুবেলকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে ভবনের ছাদে নেয়ার চেষ্টা করলে দৌড়ে গিয়ে একটি কাপড়ের দোকানে আশ্রয় নেন তিনি। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় দোকানদাররা তাদের তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির কার্যালয়ে নিতে চাইলে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান রুবেল।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি ছুরিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে রুবেল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।