ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘স্ত্রীর আগের স্বামী হত্যা করল আর জেল খাটলাম আমি’

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা
প্রকাশিত: ২১:০৪, ৩১ আগস্ট ২০২০
‘স্ত্রীর আগের স্বামী হত্যা করল আর জেল খাটলাম আমি’
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শেখ জাহিদ

কোনো দোষ না করেও হত্যা মামলায় ২০ বছর কনডেম সেলে ছিলেন শেখ জাহিদ। তার নামে এ মিথ্যা মামলা করেন শ্বশুর-শাশুড়ি। অবশেষে খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

উচ্চ আদালত থেকে মামলার নথি খুলনা কারাগারে এসে পৌঁছালে সোমবার সন্ধ্যায় জাহিদকে মুক্তি দেয়া হয় বলে জানান জেল সুপার মো. ওমর ফারুক।

এদিকে ২০ বছর পর মুক্তি পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন জাহিদ। তাকে দেখতে কারাগার এলাকায় গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক মানুষ ভিড় জমান।

আরো পড়ুন: ৩০ টাকার মাস্ক এখন ৩ টাকা, বাকিটা ইতিহাস 

জাহিদ বলেন, কখনো ভাবিনি যে ছাড়া পাবো। আমি নির্দোষ ছিলাম। কারাগারে ২০ বছর অনেক কষ্টে কেটেছে। সব সময় মৃত্যু কামনা করেছি। আমি এখন নতুন করে জন্মগ্রহণ করেছি। এজন্য আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া। তবে আমি এখন ভারি কোনো কাজ করতে পারব না।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর আগে বিয়ে হয়েছিল। সেই স্বামী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। আর আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। সেই মামলায় ২০ বছর জেল খাটলাম আমি।

জেল ফটকে শেখ জাহিদকে নিতে আসা তার ভগ্নিপতি আজিজুর রহমান বলেন, মামলার সময় তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। টাকা দিতে না পারায় সব জেনেও সেলিমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। বিনা অপরাধে ২০ বছর কারাগারে কাটালেন জাহিদ। তার ২০ বছর কে ফিরিয়ে দেবে?

আরো পড়ুন: ময়লার স্তূপে কঙ্কাল, পাশে পড়ে ছিল পোশাক-জুতা

এর আগে পারিবারিক কলহে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা মামলায় ২০০০ সালের জুন মাসে শেখ জাহিদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় বাগেরহাটের একটি আদালত। সেই থেকে কারাগারে থাকেন জাহিদ।

জানা গেছে, শেখ জাহিদ খুলনার রূপসা উপজেলার নারিকেল চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৭ সালে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকায় রহিমা খাতুন নামে একজনকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৯৭ সালের ১৬ জানুয়ারি বাগেরহাটের ফকিরহাট থানায় মামলা করেন তার শ্বশুর ময়েন উদ্দিন শেখ। মামলায় রহিমা খাতুন ও তার দেড় বছরের মেয়ে রেশমা খাতুনকে ঘুমের মধ্যে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার পর পালিয়ে গেছেন শেখ জাহিদ। এ মামলায় বাগেরহাটের আদালত ২০০০ সালের ২৫ জুন এক রায়ে একমাত্র আসামি শেখ জাহিদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। রায় ঘোষণার আগে জাহিদ আত্মসমর্পণ করেন।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের নড়াইলের জামাই ছিলেন প্রণব মুখার্জি

নিম্ন আদালতের রায় অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয় ডেথ রেফারেন্স। হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বিচারপতি বদরুল হক ও বিচারপতি মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই রায় দেন। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে কারাগার থেকে ২০০৭ সালে হাইকোর্টে জেল আপিল করেন জাহিদ।

এর ধারাবাহিকতায় আপিলের ওপর চলতি মাসে মামলাটি নজরে পড়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চের। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় সর্বোচ্চ আদালত। নিযুক্ত করা হয় শেখ জাহিদের আইনজীবী। কিন্তু মামলার শুনানি করতে গিয়ে আপিল বিভাগ দেখেন নানা অসঙ্গতি। বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ জাহিদকে খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, স্ত্রী ও কন্যা হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শেখ জাহিদকে খালাস দেয়া হলো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!