বাবার মৃত্যুর পর ভারসাম্যহীন মা নিরুদ্দেশ, তিন বছরে খুঁজে পেল ছেল
১৫ বছর বয়সে হঠাৎ বাবার মৃত্যু দেখে মেহেদি হাসান। কিশোর বয়সে মাথার ছায়া হারিয়ে দিশেহারা হয় মেহেদি। বাবার মৃত্যুর ছয় মাসের মধ্যেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিরুদ্দেশ হন মা মেরিনা বেগম। বাবার পর মাকে হারিয়ে দিশেহারা জীবন কাটতে লাগল মেহেদির। নিজের এলাকাসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলায় মাকে হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে সে। অবশেষে মেহেদি মায়ের খবর পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বাগেরহাটের শরণখোলার তাফালবাড়ী বাজারে মায়ের সন্ধান পায় মেহেদি। ওই দিন রাতে ৯টায় তার মাকে শরণখোলা প্রেস ক্লাবে নিয়ে আসা হয়। পরে সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মেহেদির হাতে তার মাকে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় মেহেদির মামাও উপস্থিত ছিলেন।
ছেলের কাছে থাকা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে জানা যায়, পিরোজপুরের নেছারাবাদের গগন গ্রামে মেরিনা বেগমের বাড়ি। স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। ১৯৭২ সালের ২ জুলাই তার জন্ম।
ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে দিনমজুর বাবা মারা যান। এরপর মা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তিন ভাই-বোনকে রেখে হঠাৎ একদিন মা নিরুদ্দেশ হন।
বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মাকে খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি। ছয় মাস আগে এলাকার পরিচিত এক ব্যবসায়ী জানান যে, শরণখোলায় মায়ের মতো এক নারীকে তিনি দেখেছেন। খবর পেয়ে ওই সময় শরণখোলা গিয়েছিলাম। তবে মাকে পাওয়া যায়নি। তখন তাফালবাড়ী বাজারের জুতার ব্যবসায়ী বাদল হাওলাদারকে আমার মোবাইল নম্বর ও মায়ের ছবি দিয়ে আসি। মায়ের সন্ধান পেলে আমাকে জানাতেও বলি। ওই ব্যবসায়ী মাকে দেখে আটকে রেখে আমাদের খবর দেন। পরে মামা মিন্টু ব্যাপারীকে নিয়ে শরণখোলায় মায়ের কাছে যাই। ওই ব্যবসায়ীর কারণে অবশেষে মাকে ফিরে পেলাম।
সন্ধানদাতা মো. বাদল হাওলাদার বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে ওই নারীকে বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখছি। মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও তাকে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা যায়নি। প্রায় আমার দোকানের সামনে এসে হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। দু-এক টাকা দিলে চলেও যেতেন। ছেলের কাছে তার মাকে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
মেরিনা বেগমের ভাই মো. মিন্টু ব্যাপারী বলেন, হারিয়ে যাওয়া বোনকে ফিরে পেয়েছি। শরণখোলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, তারা আমার বোনকে খুঁজে পেতে সহায়তা করেছেন।