সেই সিরিয়াল রেপিস্ট বেলাল বন্দুকযুদ্ধে নিহত
চট্টগ্রামের বায়েজীদে শিশু ধর্ষণকারী ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ হিসেবে সন্দেহভাজন বেলাল দফাদার পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে শান্তিনগর এলাকার পাহাড়ে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্র এবং ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গত ৬ মাসে এই শান্তিনগর এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় সাত শিশু। আর এসব ধর্ষণের জন্য স্থানীয়রা বেলাল দফাদারকে সন্দেহ করে। এর আগে ২০১৬ সালে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ বেলাল দফাদারকে একবার গ্রেফতার করেছিল। জামিনে এসে তিনি আবার শিশু ধর্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
বায়েজীদ থানার ওসি প্রিটন সরকার বলেন, শান্তিনগরের পেছনের যে বড় পাহাড়ি এলাকা রয়েছে সেখানেই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বেলাল দফাদার নিহত হন। পরে ঘটনাস্থলে অস্ত্র এবং ইয়াবা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, শিশু ধর্ষণের বিষয়টি শুরু থেকেই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছিলাম।
চট্টগ্রামের বায়েজীদ শান্তিনগরে গত ৬ মাসে একই সময়ে একই পন্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে সাত শিশুকে। গত ১৫ দিনে ধর্ষণ হয়েছে দুই শিশু।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এক শিশুকে বলাৎকারের মাধ্যমে ধর্ষণকাণ্ড শুরু হয় সিরিয়াল রেপিস্টের। সবশেষ গত ২০ জুলাই বিকেলে ধর্ষণের শিকার হয় ৭ বছরের এক শিশু। অবশ্য তার আগে ফেব্রুয়ারি মাসে দুইজন, এপ্রিল মাসে একজন, জুন মাসে একজন এবং জুলাই মাসে একজনসহ আরো চার শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ওই এলাকায়। আলামত নষ্ট করতে ধর্ষণের শিকার শিশুদের পরনের রক্তাক্ত কাপড় ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি তাদের গোসল করিয়ে দিতেন ওই ধর্ষক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই সময়ে এবং একই পন্থায় শান্তিনগর এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এসব শিশুদের। অজ্ঞাত স্থানে ধর্ষণের পর তাদের আবার সেই অটোরিকশা করেই রাস্তার মাঝে ছেড়ে দেয়া হয়। এমনকি শিশুরা কান্নাকাটি করলে ছুরি দেখিয়ে হত্যার ভয় দেখাতেন তিনি।
৬টি ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বায়েজীদ থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন বেলাল দফাদার মারা যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।