করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগে চিকিৎসকের জেল-জরিমানা
ঢাকার পর এবার সিলেটে করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। বিদেশগামী প্রবাসীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ওই চিকিৎসকের চেম্বারে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে চার মাসের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. এএইচ শাহ আলম। তিনি নিজেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক বলে দাবি করেন। তবে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর থেকে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত একজন চিকিৎসক।
এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক নিজেও একজন করোনা রোগী। গত ১৪ জুলাই তার করোনা পরীক্ষার ফলাফলে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপরও তিনি চেম্বারে রোগী দেখেছেন। দিয়েছেন করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট।
এদিকে রোববার এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। সন্ধ্যায় নিয়ে যাওয়া হয় তার চেম্বারে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সুনন্দা রায়ের নেতৃত্বে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে জেল ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, প্যাডে ওই চিকিৎসক নিজেকে ওসমানী মেডিকেলের পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি আমাদের হাসপাতালে কেউ নয়।
এ বিষয়ে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের সিলেটের মহাব্যবস্থাপক এম এ মতিন মাসুক বলেন, আমাদের বিপনন কর্মকর্তারা ডা. এএইচএম শাহ আলমকে ওসমানী মেডিকেল কলেজে কাজ করতে দেখেছেন। তাই তার কাগজপত্র আর যাচাই করা হয়নি। আর ১৬ জুলাই করোনা সংক্রমণের কথা অবগত হলেই ওই চিকিৎসককে চেম্বারে আসতে নিষেধ করা হয়।