ঢাকা,  রোববার   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সংযোগ ]

কনটেন্ট থেকে উদ্যোক্তাদের গ্রোথে, ব্র্যান্ডস্টোরির নতুন পথচলা

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:০৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কনটেন্ট থেকে উদ্যোক্তাদের গ্রোথে, ব্র্যান্ডস্টোরির নতুন পথচলা
উদ্যোক্তাদের নিয়ে ব্র্যান্ড মার্কেটিং বিষয়ে সেশন পরিচালনা করছেন ব্র্যান্ডস্টোরির ফাউন্ডার ও সিইও আরাফাত হোসেন বিপুল।

অনলাইনে ব্যবসা করছেন, এমন উদ্যোক্তাদের অনেকেরই কনটেন্ট তৈরি, মার্কেটিং বিক্রি বাড়ানো নিয়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এসব কাজেই সহায়তা দিচ্ছে চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আরাফাত হোসেন বিপুলের প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডস্টোরি। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির কাজ ছিল কনটেন্ট তৈরি। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কেটিং ব্যবসার গ্রোথ নিয়ে কাজ।

আরাফাতের হিসাবে, পর্যন্ত প্রায় ১০০টি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছে ব্র্যান্ডস্টোরি। এর মধ্যে গত তিনচার মাসেই কাজ হয়েছে ৫০টির বেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে। বর্তমানে নিয়মিত ক্লায়েন্টের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জনের মধ্যে থাকে। ভবিষ্যতে ৩০ থেকে ৫০টি নিয়মিত ক্লায়েন্ট নিয়ে কাজ করতে চান তারা।

Advertisement

ব্র্যান্ডস্টোরির শুরুটা খুব বড় পরিসরে হয়নি। ২০২২ সালে এইচএসসি শেষ করার পর ব্যবসা করার আগ্রহ থেকে বিভিন্ন কাজের চেষ্টা করেন আরাফাত। বেশির ভাগ উদ্যোগ সফল হয়নি। পরে বাসায় বসে কাজ করতে সমস্যা হওয়ায় চট্টগ্রামে একটি ছোট চিলেকোঠার অফিস নেন। সেখানে মার্কেটিং কনটেন্ট নিয়ে কাজ শেখা শুরু করেন।

পরে বন্ধু মিনহাজ সাইফুলকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ব্র্যান্ডস্টোরি। নামটি প্রস্তাব করেছিলেন মিনহাজ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গল্প তুলে ধরার কাজের সঙ্গে নামটির মিল আছে বলে নামটি তাদের পছন্দ হয়।

শুধু কনটেন্টে সীমাবদ্ধ নেই

শুরুতে অনলাইন উদ্যোক্তাদের কনটেন্ট তৈরি করে দিত ব্র্যান্ডস্টোরি। কাজ করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা মার্কেটিং, বিক্রি ব্যবসা বাড়ানো নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই কাজের পরিধি বাড়ে।

আরাফাত বলেন, তারা উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সব কাজ করেন না। পণ্য সংগ্রহ, প্যাকেজিং বা ডেলিভারির মতো বিষয় তাদের কাজের মধ্যে নেই। তাদের মূল কাজ মার্কেটিং ব্যবসার গ্রোথে সহায়তা করা।

শুরুর সময়টা সহজ ছিল না। প্রথম মাসে ভালো কাজ পাওয়ার পর পরের দুই মাসে কাজ কমে যায়। বিভিন্ন পেজ উদ্যোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তেমন সাড়া পাননি। তখন উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যেতে পারেএমন চিন্তাও এসেছিল তার।

পরে নিজেরাই নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখান থেকে পরিচিতি বাড়তে থাকে।

কাজের ফলাফল সম্পর্কে আরাফাতের দাবি, কয়েকটি ব্র্যান্ডের ব্যবসা ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কিছু কনটেন্টে অর্গানিকভাবে থেকে লাখ পর্যন্ত ভিউ এসেছে বলেও জানান তিনি।

পেইড বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অর্গানিক কনটেন্ট, পুরোনো ক্রেতাদের ধরে রাখা এবং একাধিক মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

আরাফাত বলেন, “আমরা পেইড অ্যাডসের পাশাপাশি অর্গানিক গ্রোথ, রিপিট কাস্টমার, মাল্টি চ্যানেলসএসবের দিকে ফোকাস দিই।

ছোট আয়োজন থেকেই শুরু কর্মশালা

ব্র্যান্ডস্টোরির শুরুর দিকে চিলেকোঠার অফিসের ছাদে প্রায় ১৫ জন উদ্যোক্তাকে নিয়ে একটি আয়োজন করেন আরাফাত। সেখানে দল, বিক্রি ব্যবসা নিয়ে কথা হয়। সেটিই ছিল তার প্রথম বড় পরিসরে কথা বলা।

আয়োজনটির ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশের পর প্রায় লাখ ৩০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছায় বলে জানান তিনি। পরে চট্টগ্রামের আল-আফিয়াহ হাসপাতাল থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকে কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান তারা।

এরপর সিআরবিসহ বিভিন্ন জায়গায় উদ্যোক্তাদের নিয়ে কর্মশালা সভা করেছেন তারা। এখন নিজেদের অফিসেও ধরনের আয়োজন করছে ব্র্যান্ডস্টোরি।

আরাফাত জানান, গত ছয় মাসে ঈদের দিনসহ এমন দিন খুব কমই গেছে, যেদিন তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ হয়নি। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করছেন তিনি। তার হিসাবে, গত নয় মাসে সেখানে অনুসারীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা

বিভিন্ন উদ্যোক্তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ব্যবসা সম্পর্কে নিজের ধারণাও বদলেছে বলে জানান আরাফাত।

তার অভিজ্ঞতায়, কেউ ভালো বিক্রি করেও দলগত সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারেন না। কেউ আবার ব্যবসার প্রায় সব কাজ নিজেই করতে চান। আবার অনেকে মনে করেন, বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করলেই বিক্রি বাড়বে।

আরাফাতের মতে, অনেক তরুণ দক্ষতা অর্জনের চেয়ে অর্থায়নের দিকে বেশি নজর দেন। আবার কেউ মার্কেটিং বলতে শুধু বিজ্ঞাপন দেওয়াকেই বোঝেন। কিন্তু ব্যবসা বাড়াতে হলে পণ্য, দক্ষতা, দল, কনটেন্ট মার্কেটিংসব দিকেই নজর দিতে হয়।

এসব বিষয় নিয়েই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করেন তারা।

দলের কাজের ধরন নিয়েও ভাবনা

ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের কাজের ধরন নিয়েও কাজ করছেন আরাফাত। সময় মেনে কাজ করা, একে অন্যকে সম্মান করা এবং ভবিষ্যতে দিনের শুরু আরও আগে করার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

আরাফাত বলেন, “কালচার নিয়ে আমরা এখনও কাজ করছি। টাইম মেইনটেইন করা। ইন ফিউচারে ফজর থেকে স্টার্ট করা। সবাই সবাইকে রেসপেক্ট করা।

তিনি অফিসে না থাকলেও যেন ক্লায়েন্টরা ভালো সেবা পান, সেটিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “আমি না থাকলেও আমার ক্লায়েন্টদের সার্ভিস যেন বেস্ট হয়।

সহপ্রতিষ্ঠাতা মিনহাজ সাইফুলকে ব্র্যান্ডস্টোরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন আরাফাত। ব্যবসার শুরুর সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মিনহাজ তাকে সহায়তা করেছেন। সাইফুলও অনেকটা পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।

সাফল্য শুধু টাকা দিয়ে মাপতে চান না

আরাফাতের কাছে ব্যবসার সাফল্য শুধু কত টাকা আয় হলো, তা দিয়ে মাপার বিষয় নয়।

তিনি বলেন, “টাকা কখনো সাক্সেসের মানদণ্ড হতে পারে না। কারণ টাকা মানে কত টাকা? এটা আমি ডিফাইন করতে পারব না।

তার কাছে নৈতিকভাবে মার্কেটিং করা এবং ক্লায়েন্টের আস্থা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী তিন বছরের মধ্যে ব্র্যান্ডস্টোরিকে দেশের বড় মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।

সামনের দিনে দল অফিসের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা মূল্যে যতটা সম্ভব কাজে লাগার মতো তথ্য সহায়তা দিতে চান তারা।

ব্যবসা করতে গিয়ে নিজেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান আরাফাত। ধৈর্য, সময় ব্যবস্থাপনা, দল পরিচালনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগএসব বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি শিখেছেন। আগে মানুষের সামনে কথা বলতে অস্বস্তি হলেও এখন নিয়মিত কর্মশালা সভায় কথা বলেন।

তরুণদের জন্য তার পরামর্শ, শুরু করতে হবে। ভুল হতে পারে, অর্থও হারাতে হতে পারে। কিন্তু শুরু না করলে শেখার সুযোগ হবে না। একই সঙ্গে একসঙ্গে অনেক কিছু শেখার চেয়ে একটি দক্ষতা ভালোভাবে শেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ//এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!