ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের মূলহোতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০:৩৫, ৭ জুন ২০২৪
জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের মূলহোতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল নোট প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ী চক্রের মূলহোতা হৃদয় মাতব্বর (২২)’কে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে জাল নোটের অবাধ কারবার নিয়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলে র‌্যাব এসব সংঘবদ্ধ জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এরূপ বেশকিছু জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে।

Advertisement

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর শ্যামপুর থানার পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হৃদয় মাতব্বরকে আটক করে।

হৃদয় মাতব্বর শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার বুড়িরহাট গ্রামের মোতালেব মাতব্বরের ছেলে। বর্তমানে সে রাজধানীর শ্যামপুর থানার পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

অভিযানের সময় তার নিকট থেকে জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর, ১টি প্রিন্টার, ১টি কী-বোর্ড, ১টি মাউস, ১টি রাউটার, ২টি মাল্টিপ্লাগ, ১টি পেপার কাটার, ৯টি ভুয়া এনআইডি কার্ড, ৩টি ভুয়া ভারতীয় এনআইডি কার্ডের ফটোকপি এবং ৬০,৭০০ টাকা মূল্যমানের জাল টাকা (৬০২টি ১০০ টাকার নোট এবং ১টি ৫০০ টাকার নোট) উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ আটককৃত আসামি পূর্ব থেকেই কম্পিউটারে পারদর্শী ছিল। সে ধোলাইপাড় এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতো। ইউটিউব থেকে জাল টাকা বানানোর প্রক্রিয়া দেখে এবং নিজের অর্জিত কম্পিউটার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাল নোট তৈরিতে পারদর্শিতা অর্জন করে।

পরবর্তীতে হৃদয় কম্পিউটার, প্রিন্টার, পেপার কাটার এবং জাল টাকা তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজ গৃহে জাল টাকা ছাপানোর কাজ শুরু করে। সে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে জাল টাকা বিক্রয়ের জন্য নেটওয়ার্ক তৈরি করে এবং এসব পেজ প্রমোট ও বুস্টিং করে অনেক পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা সংগ্রহ করে। সে দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট প্রস্তুত ও বিক্রয় করে এলেও ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে বিপুল পরিমাণ জাল নোট বাজারে সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিয়েছিল।

হৃদয় প্রতি ১ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোট ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। ঈদ উপলক্ষে জাল নোটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সে প্রতি ১ লাখ টাকার জাল নোট ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

র‌্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার জানান, এছাড়া সে অবৈধভাবে দেশি ও বিদেশি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে সেগুলো বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিকট বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বিক্রয় করে আসছিল। এসব জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: জাল নোট
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!