ঢাকার সবচেয়ে বড়, আকর্ষণীয় এবং জমজমাট ইফতারের বাজার হলো পুরান ঢাকার চকবাজার ইফতারপাড়া। সেই নবাবী আমল থেকে চকবাজার শাহী মসজিদের সামনে জোহরের নামাজের পর থেকেই বসে এই বাজার।
রমজানের প্রথম দিন থেকেই চকবাজারের ইফতার বাজারে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও সরেজমিন দেখা গেছে, শাহী মসজিদের সামনে অস্থায়ী দোকানিরা খাসির রানের কাবাব, সুতি কাবাব, মুঠি জালি কাবাব, জালি কাবাব, নারগি চাপ, টিকা কাবাব, শাক ফুলুরি, ডিম চপ, দই বড়া, কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, হালিম, নুরানি লাচ্ছি, পেস্তা বাদামের শরবত, পরোটা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ছোলা বুট, ভুগনি, বেগুনি, বোম্বে ও শাহী জিলাপি নিয়ে হাঁক ছাড়ছেন।
.png)
দোকানিরা ‘এটাই অরিজিনাল দিল্লী কাবাব’, ‘কাবাব খায় নবাবে’ ইত্যাদি স্লোগানে ক্রেতাদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। কয়েকজন দোকানির জানান, মানুষ ইফতারি কেনার চেয়ে দেখতেই বেশি আসে।
বাবুবাজার থেকে আসা কলেজশিক্ষার্থী তাহমিদুল ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় বাসার সবাই চকবাজারের ইফতার খেতে পছন্দ করে। তাই মাঝেমধ্যে আসতে হয়। দাম বেশি হলেও অনেক কিছু কিনেছি।
ধানমন্ডি থেকে ইফতার কিনতে আসা আকিব ইসলাম বলেন, রমজানের শুরুতেই চলে এসেছি। আজকে ৩টা খাসির পা, ৫টি আস্ত কবুতরের রোস্ট নিয়েছি। সামনে আরো কয়েকবার আসার পরিকল্পনা আছে।
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রিল ৮০ টাকা, দুধ নান ৬০ থেকে ১০০ টাকা, সবজি নান ৮০ টাকা, সাদা পরটা ৩০ টাকা, কিমা পরোটা ৬০ টাকা, নাকাঠি কাবাব ৭০ টাকা, টেংরি কাবাব ৮০ টাকা, শিক কাবাব ১২০ টাকা, সুতি কাবাব ১৪০০ টাকা কেজি, মাঠা (ঘোল) প্রতি লিটার ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর বিরিয়ানি ৩৫০ টাকা, গরুর হালিম মানভেদে ২০০-৬০০ টাকা, আস্ত কোয়েল পাখির রোস্ট ১০০ টাকা, খাশির পা ৮০০ টাকা, চালতা ও আমের আচার ৪০০ টাকা কেজি, ঘিয়ে ভাজা জিলাপি প্রতি কেজি ২০০ টাকা ও মেগা জিলাপি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইফতারি ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি। তবে যত মানুষ আসছে, তত মানুষ কিনছে না। অনেকে কেবল দেখতে আসছে।
আরিফুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ বছরে সবকিছুর দাম একটু বাড়তি হওয়ায় অন্যান্যবার থেকে বেচাকেনা কম। তবে, আশাকরি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বাড়বে।
এদিকে রমজান মাসে ইফতারের তালিকায় থাকা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ফলমূল। চকবাজারে ও বাদামতলীতে ফলের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাঙ্গি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, আনারস ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কমলা ২৫০-২৮০ টাকা কেজি, আঙুর ৩০০ টাকা, বেদানা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মালটা ৩৫০ টাকা, নাশপাতি ৩০০ টাকা, আপেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, ডাব ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, শসা ও পেয়ারা ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ফল ব্যবসায়ী মো. আতিকুল্লাহ বলেন, রমজানে বিদেশি ফলের চাহিদা একটু বেশি থাকে। এসব ফল দেশের বাইরে থেকে আনতে হয়। ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে সব ফলের দাম কিছুটা বেড়েছে। এজন্য ক্রেতা কম।
এদিকে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ ও বাসি ইফতারি বিক্রি হচ্ছে কিনা এসব বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মনিটরিং বুথ বসানো হয়েছে চকবাজারে।
মনিটরিংয়ের দায়িত্বরত চকবাজার থানার সহকারী কমিশনার বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক ইফতার বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। ফুটপাত ক্লিয়ার রাখার চেষ্টা করছি যেন জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। পুরো মাস আমরা তৎপর থাকবো।