ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ঐতিহ্যের সাকরাইনে মাতোয়ারা পুরান ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:০৩, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪
ঐতিহ্যের সাকরাইনে মাতোয়ারা পুরান ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব উদযাপন করছে পুরান ঢাকার মানুষ। প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষদিনে উদযাপন করা হয় পুরান ঢাকার সর্ববৃহৎ এ বর্ণিল উৎসব। ‘পৌষ সংক্রান্তি’ হলেও পুরান ঢাকায় এটি সাকরাইন নামে পরিচিত। পৌষ মাসের ৩০ তারিখ সাকরাইন উদযাপিত হলেও এক সপ্তাহ আগেই শুরু হয় ঘুড়ি তৈরি, কেনাবেচা ও সুতায় মাঞ্জা দেওয়ার কাজ। এছাড়া উৎসব উপলক্ষে বাসাবাড়িতে আগমন ঘটে অতিথির।

রোববার পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন মোড়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাহারি রঙের ঘুড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা দামের ঘুড়ি। নাটাই বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ২০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

সাকরাইন উপলক্ষে বিক্রি হচ্ছে বাহারি রঙের ঘুড়ি

Advertisement

সাকরাইন উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন পুরান ঢাকায় এসে ভিড় করে। রাতে বাসাবাড়ির ছাদে আয়োজিত হয় নাচ-গান, ডিজে পার্টি ও পিঠা উৎসব। আরো রয়েছে আতশবাজি ফোটানো, আগুন নিয়ে খেলা ও বিভিন্ন খাবারের আয়োজন। বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এ উৎসবে। তবে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সবচেয়ে বেশি। পুরান ঢাকার প্রতিটি বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। আত্মীয় স্বজনদের নিমন্ত্রণ করা, বাসাবাড়িতে পিঠাপুলি পাঠানো হয়।

পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারের বাসিন্দা শ্যামা রাণী বলেন, ‘সাকরাইন’ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। আমরা প্রতি বছর এ উৎসব পালনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে প্রতি বছর ঘুড়ি উড়িয়ে উৎসব করি। এ বছরও ঘুড়ি কিনেছি। পিঠা বানাবো। উৎসব করবো।

সাকরাইন উপলক্ষে বাহারি রঙের ঘুড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা

শাঁখারিবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল বলেন, আমরা বছর জুড়েই ঘুড়ি-নাটাইয়ের ব্যবসা করি। সাকরাইন উপলক্ষে অন্যরকম আমেজ সৃষ্টি হয়।

গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা সাকেরুল ইসলাম বলেন, সাকরাইনের প্রস্তুতি নেয়া শেষ। এখন ঘুড়ি ওড়ানো ও উৎসবের মাধ্যমে দিনটিকে উদযাপন করার পালা। আমরা এ দিনটির জন্য সারা বছরই অপেক্ষা করি। 

এদিকে সাকরাইন উৎসব উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের বেচা-বিক্রিতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজার, সূত্রাপুর, নবাবপুর, শ্যামবাজার, ধূপখোলা, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, ফরাশগঞ্জ, সদরঘাট, গেন্ডারিয়া, নারিন্দা, লালবাগ, দোলাইখালসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ি, নাটাই, সুতা, আতশবাজি ও ফানুস বিক্রি করতে দেখা গেছে। এই এলাকাগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!