ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

মাইকিং করে হাট জমানোর চেষ্টা, কাদা-গোবরে চলছে বেচাকেনা

নুরুল করিম
প্রকাশিত: ১৬:৩২, ২৭ জুন ২০২৩
মাইকিং করে হাট জমানোর চেষ্টা, কাদা-গোবরে চলছে বেচাকেনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর হাটগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশু কেনা-বেচা শুরু হয়েছে রোববার। তবে মূল বেচাকেনা চলছে সোমবার রাত থেকে। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও দাম চড়া। বিশেষত মাঝারি আকারের গরুর দাম তুলনামূলক চড়া। ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার অনেক বেশি দাম হাঁকছেন ব্যাপারীরা। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় পশুখাদ্যের দাম ও পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবকরা চেষ্টা করছেন হাট জমানোর।

রাজধানীতে বসা কোরবানির পশুর বড় হাটগুলোর মধ্যে আফতাবনগর হাটটি অন্যতম। কয়েকদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা গরু আনতে শুরু করেছেন। সকাল থেকে বৃষ্টির বাগড়া থাকলেও বেচাকেনা থেমে নেই। হাট শুরুর দ্বিতীয় দিনে হাট জমে ওঠায় খুশি বিক্রেতারা। সেই সঙ্গে হাটে স্থাপিত হাসিল বুথগুলোতেও ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।

হাট যে জমে উঠেছে তার প্রমাণও মিলল হাটের হাসিল আদায়কারী কর্তৃপক্ষের লাগানো মাইক থেকে আসা চিল্লাচিল্লি শুনে। মাইকে বারবার বলা হচ্ছে, আপনারা কেউ হাসিল না দিয়ে গরু নিয়ে যাবেন না। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হচ্ছে, অনেকে গরু নিয়ে সরাসরি হাট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তোমরা খেয়াল রাখো। হাসিল না দেখে কোনো গরুর মালিককে বের হতে দিও না।

Advertisement

আফতাবনগর হাটে স্থাপিত ৩ নং হাসিল বুথের দায়িত্বে থাকা জুয়েল জানান, সোমবার রাত থেকেই বেচাকেনা বেড়েছে। এর আগে মানুষ দাম শুনেই চলে যেত। ঈদ যেহেতু বৃহস্পতিবার, সবাই চেষ্টা করছেন মঙ্গলবারের মধ্যেই কিনে নিতে। কারণ কেউই রিস্ক নিতে চান না।

হাটে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন আহমেদ রনি। হাসিল দেখে গরুকে বাজার থেকে বের হওয়ার ছাড়পত্র দিচ্ছিলেন তিনি। রনি জানান, গতকাল রাত থেকেই তিনি অন্তত চার শ’ গরুকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। আজ বেচাকেনা কয়েকগুণ বেশি হবে বলে তার বিশ্বাস।

২৪ ঘণ্টাই হাটের প্রবেশদ্বারে সতর্ক অবস্থানে স্বেচ্ছাসেবকরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মঙ্গলবার সকালের এক পশলা বৃষ্টিতে পানি, কাদা আর গোবরে একাকার হয়ে গেছে আফতাবনগর হাট। ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল থেকে আবহাওয়া খারাপের কারণে আশানুরূপ ক্রেতা সমাগম কম। যারা হাটে আসছেন, বেশিরভাগই দাম জানতে চেয়ে চলে যাচ্ছেন, কিনছেন না। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, আবহাওয়া ভালো হলে ফের জমে ওঠবে পশুর বেচাকেনা।

মেহেরপুর থেকে আফতাবনগর হাটে ৭টি গরু এনেছেন আজগর আলী নামের একজন বিক্রেতা। তিনি বলেন, হাটে গরুর কোনো অভাব নেই, প্রচুর পরিমাণে গরু। এসব গরুর মধ্যে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সেইসঙ্গে দামও বেশি। গত বছর যে গরু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার সেই গরু কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে।

রংপুর থেকে সোমবার রাতে ৮টি গরু নিয়ে এসেছেন সোনা মিয়া। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তিনি তিনটি গরু বিক্রি করেছেন। বাকি গরুগুলোর আজ অর্ধেক বিক্রি হবে বলে আশাবাদী সোনা মিয়া। এমনকি ভালো দাম পেয়ে তিনি বেশ খুশিও আছেন।

হাটে আসা ক্রেতা রফিক আহমেদ বলেন, ‘গতকাল রাতেও এসেছিলাম। ক্রেতা কম, কিন্তু বিক্রেতারা গরুর দাম ছাড়ছে না। তারা আরও দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে ছোট গরু ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। আর মাঝারি গরুর দাম অনেক বেশি। এর চাহিদাও অনেক।’

আফতাবনগর হাটে দেখা গেছে, হাটের সীমানা ছাপিয়ে গরু চলে গেছে অনেক দূর। সেখানে হাঁটার রাস্তায়ও পানি জমে গেছে। বৃষ্টির মধ্যেই ভিজছে গরুগুলো। এ অবস্থায় আশপাশে দোকানপাট না থাকায় বিপদে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এমন আবহাওয়াও স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং ও নানা প্রচারণার মাধ্যমে বাজার জমানোর চেষ্টা করছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!