ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

সবুজ-শ্যামল নয়নাভিরাম শহরে পরিণত হবে ঢাকা: মেয়র আতিক

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ২২ জুন ২০২৩
সবুজ-শ্যামল নয়নাভিরাম শহরে পরিণত হবে ঢাকা: মেয়র আতিক
ডিএনসিসি ও বন অধিদফতরের যৌথভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম

পরিকল্পিত বৃক্ষ রোপণের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাকে আবাবো সবুজ শ্যামল নয়নাভিরাম শহরে পরিণত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

‌বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর এ. কে. খন্দকার সড়কে ডিএনসিসি ও বন অধিদফতরের যৌথভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।

মেয়র আতিক ব‌লেন, এক সময় এই ঢাকা শহর গাছ-পালায় ভরপুর ছিল। ঢাকার মাটি ছিল ঊর্বর। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে সেই বনভূমি উজার করে ফেলেছি। এখন রাস্তায় বেরুলে আর আগের মতো ছায়া পাই না। বিশুদ্ধ অক্সিজেন হাব কোথাও নেই। অসহ্য তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকি। প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে।

Advertisement

প্রচণ্ড গরম অনুভূত হওয়ার জন্য নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনকে দায়ী করে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এক সময় সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলা সবুজ বাংলাদেশ নামে এই দেশের খ্যাতি ছিল। এখন আর সেটা নেই। আমরা গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করে ফেলছি। প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে মাটি দূষিত করে ফেলছি। গাছ পালা কমে যাওয়ায় শ্যামল ছায়া আর দেখতে পাওয়া যায় না। সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ থেকে দূরে সরে গেছি। এগুলো এখন আমাদের কাছে ইতিহাস মনে হয়। এখন আমরা ঢাকা শহরে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষ রোপণের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসতে চাই। আবার ঢাকা শহরকে সবুজ ছায়ায় ছেয়ে দিতে চাই।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আমি দাবি জানিয়েছিলাম যারা সুষ্ঠুভাবে ছাদ বাগান করবে সেই সব বাসার মালিকদের ১০ শতাংশ হারে হোল্ডিং টেক্স ছাড় দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সেই সুবিধা এখন সব সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে দিচ্ছে। এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাঁচার একটাই পথ- বিপুল পরিমাণ গাছ লাগাতে হবে। যেখানেই ফাঁকা জায়গা সেখানেই বৃক্ষরোপণ করে পরিচর্যা করতে হবে। এভাবে আগাতে থাকলে ঢাকা হবে আবার সেই সবুজ ঢাকা এবং একটি পরিপূর্ণ অক্সিজেন হাব।

যেকোনো পরিস্থিতিতে ডিএনসিসিসহ যেকোনো সংস্থাকে একটি গাছও না কাটার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, কোনো কাজের জন্য গাছ কাটার দরকার হলে আসুন আমরা বসি। আলোচনা করি। বাস্তবতা বিচার করি। মনে হলো আর গাছ কেটে ফেললেন এটা করা যাবে না।

কোরবানির সময় পশুর বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না উল্লেখ করে ডিএনসিসির মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশন ১০ লাখ পরিবেশ বান্ধব পলিব্যাগ বিতরণ করবে। বর্জ্যগুলি ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরাই যথা সময় নিয়ে যাবে। পশুর হাট থেকে সংগৃহীত গোবরকে সারে পরিণত করে বিভিন্ন নার্সারিকে দেওয়া হবে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসেইন মোহাম্মদ নিশাদ, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল করিম, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম ও বন সংরক্ষক আর এস এম মনিরুল ইসলাম, ডিএনসিসির পরিবেশ বিষয়ক কমিটির আহবায়ক ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন রশিদ জনিমহাখালী ও গুলশান এলাকার কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান, মো. নাছির, হাসিনা বারী চৌধুরী, আমেনা বেগম প্রমুখ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!