মিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গ্রেফতারকৃত রাজন সাহায্যের নামে বিপদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেন। তার আসল নাম রাজন হলেও এলাকাবাসীর কাছে ইমো রাজন নামে পরিচিত। অভিনব উপায়ে ইমোর মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। ইমো সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন নামে ইমোতে অনেকগুলো গ্রুপ খোলেন তিনি। এসব গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর নিদিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করা হয়। এরপর বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ইমোতে বিপুল পরিমাণ স্টিকার মেসেজ পাঠানো হয়। এত মেসেজ আসার এক পর্যায়ে ঐ নম্বর হ্যাং হয়ে যায়। তখন ঐ ব্যক্তি গ্রুপে সহযোগিতা চান। এরপর রাজন ঐ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য তার আইডিতে ঢোকার অ্যাকসেস চান।
তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে একটি ওটিপি যায়। ঐ ওটিপির মাধ্যমে অন্যরাও অ্যাকসেস পায়। পরে ইমোতে ঢুকে রাজন সেই ইমোর সব মেসেজ পড়ে তার আত্মীয় স্বজন সম্পর্কে তথ্য নেন। এরপর তার আত্মীয়ের কাছে ‘আমি বিপদে পড়েছি, টাকা পাঠান’, ‘মা অসুস্থ, টাকা পাঠান’- এ জাতীয় মেসেজ পাঠিয়ে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। রাজন স্টোরি, রাজন সলিউশনসহ তার বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে।
.png)
ওসি মহসীন বলেন, গ্রেফতারকৃত রঞ্জু পেশায় মুদি দোকানদার, কিন্তু তিনি করেন বিকাশে প্রতারণা। দোকানে বসেই বিকাশ কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া সিম বিক্রির নামে অসদুপায় অবলম্বন করে মানুষের কাছ থেকে একাধিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ করেন রাব্বি। পরে সেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আরো সিম ইস্যু করেন। পরে সেসব সিম সাধারণ দামের চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি দামে বিভিন্ন প্রতারক চক্রের কাছে বিক্রি করেন রাব্বি। আর এসব সিম দিয়েই প্রতারকরা অপরাধমূলক কাজ করছিল।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, নিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ঐ তিন প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।