শুধু তাই নয়, তিনি ইসলামী বেশ ধারণ করে বিভিন্ন স্থানে ভুয়া মাদরাসার নামে চাঁদা আদায় করে সেই টাকা আত্মসাৎ করতেন। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য মানুষের মালামাল লুট আসছিল শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে চক্রটি।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় এই চক্রের খপ্পরে পড়ে আল ইমরান নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা।
.png)
পরে শামসুদ্দিনের তথ্যমতে, পুলিশ টানা দুইদিন অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- নজরুল ইসলাম (৫১), আকরাম হোসেন (৪৮) ও মো. হাসান (২৩)। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে।
পুলিশ জানায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খামারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে শামসুদ্দিন ১৯৯২ সালে অজ্ঞান পার্টি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। ৩০ বছর ধরে এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারণা করে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার টেকপাড়া এলাকার সিরাজউদ্দিন সরকার রোডে জমিসহ বাড়ির মালিক বনে গেছেন।
তার চক্রের সদস্য নজরুলও টঙ্গিতে চারতলা ভবন করেছেন। তাদের দলের সদস্যদের মধ্যে শামসুদ্দিন টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে চলতি পথে সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ করতেন। আর নজরুল থাকতেন হকারের ভূমিকায়। তিনি কাশিসহ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট বিক্রি করতেন। শামসুদ্দিন তার কাছ থেকে ট্যাবলেট কিনে নেয়ার অভিনয় করে নিজে একটি খেতেন আরেকটি দিতেন টার্গেট করা ব্যক্তিকে। পরে ট্যাবলেট খেয়ে ভুক্তভোগী জ্ঞান হারালে তার টাকা-মোবাইলসহ সঙ্গে থাকা সব কিছু নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়তেন তারা। আর এই পুরো ঘটনার নজরদারি করতেন আকরামসহ আরেকজন। তারাই মূলত টার্গেট ঠিক করে দিতেন শামসুদ্দিনকে। এই কাজ করতে গিয়ে ২০০৮ সালে একবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন শামসুদ্দিন। কিন্তু সেবার সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ছাড়া পাওয়ার পর আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
এছাড়া তার নেতৃত্বে চক্রটি ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড মাইক দিয়ে ‘টঙ্গী আল ইনসাফ ক্বারী মিয়া মাদরাসা’র নাম ব্যবহার করে চাঁদা তুলে নিজেরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিতেন।
এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারর অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরায় বিকাশ পরিবহনের একটি বাসে আল-ইমরান নামের এক যুবককে অজ্ঞান করে টাকা-পয়সা লুটের সময় শামসুদ্দিনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে বাসের অন্য যাত্রীরা। এ সময় তার দলের অন্য সদস্যরা সটকে পড়েন। পরে ইমরানকে উত্তরার লেকভিউ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মো. রুম্পা হত্যা মামলা করেছেন। পরে আটক শামসুদ্দিনের দেওয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে তার চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আটকের পর নিজেদের সব অপকর্ম অকপটে স্বীকার করেছেন তারা।