ঢাকা,  সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]

মদপানে ১৪ দিনে ১৪ জনের মৃত্যু!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৫, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
মদপানে ১৪ দিনে ১৪ জনের মৃত্যু!
ভেজাল মদ (ফাইল ছবি)

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই সপ্তাহে ভেজাল মদ পান করে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও চোলাই মদ আবার কোথাও বিদেশি মদের নামে ভেজাল মদপানে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

সোমবার ভুক্তভোগীদের স্বজন, হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বলেছেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই ভেজাল মদের সরবরাহ বেড়েছে। এসব মদ পান করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে মৃত ব্যক্তির কোনো স্বজন লিখিত অভিযোগ করছেন না।

বগুড়ায় ভেজাল মদ পান করে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) এক ছাত্রী ও তার বন্ধু আরাফাতের মৃত্যু মদপানজনিত বলে বলছে পুলিশ। তবে সেটা ভেজাল মদ কি না তা জানা যায়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানেই মৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে মদের মধ্যে অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ ছিল কি না তা পরীক্ষার আগে বলা যাচ্ছে না।

এর আগে ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তমাল নামে এক শিক্ষার্থী মদ পান করার পর মগবাজারে রাশমনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেখানকার চিকিৎসকরাও তমালের পাকস্থলীতে অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার কথা বলেছেন পরিবারের সদস্যদের কাছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে নারাজ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, করোনাকালীন খ্রিস্টীয় নতুন বছর ও বিভিন্ন উৎসবে নামে তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের নামে প্রতারকদের কাছ থেকে ভেজাল মদ সংগ্রহ করেন। নিছক শখের বশে ঘরোয়া পরিবেশে সেই মদ পান করে এদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এমনই ঘটনা ঘটে রাজধানীর বাড্ডা খিলবাড়িরটেকে। গত ১৮ জানুয়ারি একসঙ্গে মদ পান করেন নাঈম, অভি ও তার স্ত্রী। এ সময় প্রথমে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন নাঈম। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অভি ও তার স্ত্রী নাঈমের মৃত্যুর খবর তার পরিবারের কাছে জানিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরপরই অভির স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকেও আরেকটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অভি তার স্ত্রীর লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহের বাড়ির পথে রওনা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।

অভির এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, অভি ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। সেখানে মদের বিষক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক (অপারেশন) আহসানুর রহমান বলেন, বেশি মুনাফার লোভে বিদেশি মদের নামে ভেজাল মদ সরবরাহ করে থাকে অসাধু মদ বিক্রেতারা। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ মদপানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। তবে যেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যায় সেসবের প্রতিটি ক্ষেত্রে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ভিসেরা রিপোর্ট দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়ে থাকে।

এদিকে রাজধানীর একটি নামকরা বিজ্ঞাপনী সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের একটি টিম গাজীপুরে গিয়ে বিষাক্ত মদ পান করার পর টিমের ১৩ জন সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে শিহাব, শরীফ ও কায়সার নামে তিনজন মারা যান। এছাড়া আরও ১০ জন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!