ইবিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অজুহাতে ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত
১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিনা নোটিশে ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ল' অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। এতে সেশনজটের আশংকায় শংকিত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
বোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিভাগটির ২০২২-২৩ বর্ষের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের Law of Real Estate কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) শেষ সময়ে এসে বিভাগীয় কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন।
জানা যায়, ল' এন্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের Law of Real Estate কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে এসে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাননি। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীরা বিভাগে খোঁজ নিলে জানতে পারেন, সুপারিশপ্রাপ্ত জজদের সংবর্ধনা উপলক্ষে আজকের পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। পূর্ব কোনো নোটিশ না দিয়েই হুট করে এভাবে পরীক্ষা বাতিল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুরে বিভাগটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাবের স্বাক্ষরে অনিবার্যকারণবশত কারণে কোর্সের পরীক্ষাটি স্থগিত করে আগামীকাল ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠান হবে বলে নোটিশ প্রদান করা হয়।
এদিকে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, আজ আমাদের সেমিস্টার পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিতে হলে এসে কোনো স্যারকে খুঁজে পাইনি। পরে শুনি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা পূর্বে কোনো নোটিশও পাইনি। পরে জানতে পারি, জজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কারণে আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই প্রশাসন বা বিভাগের কোনো আয়োজনের জন্য একটা ব্যাচের গুরুত্বপূর্ণ এসব পরীক্ষা যেন স্থগিত না হয়।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, অনিবার্যবশত কোনো কারণে কোনো বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা স্থগিত করতে পরীক্ষা কমিটির সভাপতির অনুমতি প্রয়োজন। এর বাইরে বিভাগের সভাপতি বা অন্য কেউ পরীক্ষা স্থগিতে সর্বসম্মতি প্রয়োজন হয়। এছাড়া পরীক্ষা স্থগিতে বিভাগ থেকে অফিসিয়ালি জানাতে হয়। তবে অফিসিয়াল নোটিশের বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস অবগত নয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বিলাসী সাহাকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা স্থগিতের কারণ জানতে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘গতকাল শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা অফিসিয়ালি কার্যকর করতে একটু সময় লেগে গেছে। আমরা আন-অফিসিয়ালি অফিসে জানিয়েছি। এছাড়া আইন অনুষদের এটি জাতীয় অর্জন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' ফ্যাকাল্টিতে এই প্রথম এমন প্রোগ্রাম, এর আগে কোনোদিন এমনটা হয় নাই। ফ্যাকাল্টির প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টির সিদ্ধান্তেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হইছে। এটাকে অন্যভাবে দেখার কোনো সুযোগ নাই।'
এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, আমাদের এলামনাইদের এটি একটা বড় আয়োজন। কারণ প্রোগ্রামটা তো শুধু ল্যান্ডের একটা পরীক্ষার ইস্যু না। আমরাই বলেছি যে, বিভাগীয় শিক্ষকরা আলাপ-আলোচনা করে এটাকে চেঞ্জ করা যায় কিনা।'