বৃদ্ধাশ্রমে মনদীপ ঘরাইর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
চোখের জলে মনদীপ ঘরাইয়ের ‘ফুঁ’ উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচিত হলো। তবে এ জল দুঃখের নয় আনন্দের। ব্যতিক্রম উদ্যোগে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন এ লেখক।
সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ‘হিতৈষী সংঘ’র ৪০ প্রবীণকে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠান উপহার দেন মনদীপ।এদিন তরুণ কথাসাহিত্যিক মনদীপ ঘরাইয় তার মা বাসন্তী ঘরাইকে সঙ্গে নিয়ে ‘ফুঁ’ উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন করেন এই প্রবীণনিবাসে।
অনেক অনেক দিন পর ‘প্রবীণ ভবন’ নিবাসী বৃদ্ধ মায়েদের মুখে এক চিলতে হাসির দেখা মিলেছিল। এ বইটি বিক্রির লভ্যাংশের পুরোটাই ব্যয় হবে এই প্রবীণ নিবাসের বৃদ্ধ মায়েদের কল্যাণে।
এরকম উদ্যোগ এর আগেও নিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা মনদীপ ঘরাই। তার গল্পগ্রন্থ ‘অল্প গল্প’ এর মোড়ক উন্মোচন করেছিল তিনজন পথশিশু। সেই বইয়ের লভ্যাংশের ২১ ভাগ উৎসর্গ করা হয়েছিল সেই তিন পথশিশুর জন্য। আর এবার তিনি লভ্যাংশের পুরোটাই দিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমের জন্য।
এ বিষয়ে লেখক মনদীপ ঘরাই ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘সামাজিক কাজ এটাই আমার প্রথম না। তবে শুধু বেতনের টাকা/ নববর্ষ ভাতা দিয়ে এসব কাজে কনট্রিবিউট করা কঠিন। তাই, শখের জায়গাটাকে ভালো কাজের সাথে যুক্ত করেছি। লেখালিখিটা করি অন্তরের টান থেকে। তা থেকে যদি মানুষের জন্য কিছু করা যায়, সেটাই আমার প্রাপ্তি।
তিনি আরো বলেন, আমার মা আমার কাছে অনেক বড় কিছু। যে মায়েদের সন্তান পাশে নেই, তাদেরকে একটা বার্তা দিতে চাই, আমি সাধ্যমতো আপনাদের পাশে আছি। সন্তান হয়ে।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক পর্যায়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি লেখক। উপস্থিত অনেকেই তার সঙ্গে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক লেখকের মা বাসন্তী ঘরাই বলেন,‘ভাবতেই ভালো লাগছে আমার ছেলে এত সুন্দর একটা উদ্যোগ নিয়েছে। জীবনে আমার সবচেয়ে সেরা পাওয়া।’
বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক সজীব দত্ত নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের কার্যক্রম আমাদের স্বপ্ন দেখায় সুন্দর আগামীর। এ উপন্যাসটি তে লেখক অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।’
নিবাসের অধিবাসী একজন মা রাশিদা বলেন, ‘এমন অনুষ্ঠানের কথা চিন্তাও করি নি কখনও। লেখকের আবেগঘন কথা শুনে আমরাও চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি।’
অনুষ্ঠান শেষে লেখকের সঙ্গে প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মায়েরা মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। এ যেন স্বপ্নলোকের কোনো মিলনমেলার দৃশ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নি।